Pages

জাতীয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জাতীয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মুক্তিবাহিনী

বিসিএস প্রিলি + লিখিত + ভাইভা 
মুক্তিবাহিনী
স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেয়া বাঙালি সেনা, ছাত্র ও সাধারণ জনতা নিয়ে গঠিত একটি সামরিক বাহিনী

মুক্তিবাহিনী হলো ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেয়া বাঙালি সেনা, ছাত্র, ও সাধারণ জনতার সমন্বয়ে গঠিত একটি সামরিক বাহিনী। ২৬শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পর ধীরে ধীরে সাধারণ বাঙ্গালীদের এই বাহিনী গড়ে উঠে। পরবর্তীতে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে পূর্ব পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর সাবেক সদস্যরা "বাংলাদেশ সামরিক বাহিনী" গঠন করেন এবং জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী প্রাধান সেনাপতি পদ গ্রহণ করেন। এই সময় ভারত আমাদের ব্যাপকভাবে সাহায্য করেন। সাধারণ জনতা যুদ্ধকালীন সময়ে নিরলসভাবে এই বাহিনীকে সাহায্য করে যায়। যুদ্ধের পর পশ্চিম পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা বাংলাদেশের সকল সেনা ও জনতার বাহিনীকে "মুক্তিবাহিনী" হিসেবে সম্বোধন করা হয়। মুক্তিবাহিনী বেশিরভাগ সময়ই গেরিলা যুদ্ধের নীতি অবলম্বন করে শত্রু পক্ষকে ব্যাতিব্যস্ত রাখতো। মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধকৌশল অনেকটা বিপ্লবী চে গুয়েভারার দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিলো বলে মনে করা হয় এবং একে বিভিন্ন সময় ফরাসি মাকি বাহিনী, ভিয়েত কং এবং মার্শাল টিটোর গেরিলা বাহিনীর তুলনা করা হতো এর রণকৌশল ও কার্যকারীতার কারণে।

মুক্তিবাহিনীর শুরু

পশ্চিম পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ২৫শে মার্চ ১৯৭১ এর গণহত্যার পর প্রতিরোধের জন্য মুক্তিবাহিনী গড়ে উঠে। কিন্তু এ ছিলো বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায়মাত্র। স্বাধীনতার সংগ্রাম এর আগেই দানা বাধতে শুরু করে ১৯৬৯ এর আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। ১৯৭০ এর শুরুর দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফা আন্দোলনের মাধ্যমে তা গণআন্দোলনে রূপ নিতে থাকে। ১৯৭১ এর মার্চে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (পরবর্তীতে বাংলাদেশ) ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অসন্তোষ এবং সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের দাবী তৎকালীন পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী কঠোর হাতে দমন করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং অপারেশন সার্চলাইটের নীল নকশা আঁটে।
পশ্চিম পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মুখে অগণিত অসহায় মানুষ ভারতের পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে আশ্রয়প্রার্থী হতে থাকে (আনুমানিক ১ কোটি শরণার্থী) , যা পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের গতিপ্রকৃতিতে একটা নতুন মাত্রা দেয়। বাংলার মানুষের অসহনীয় মানবিক দূর্যোগের মুখে ভারত সরকার মুক্তিবাহিনীকে সর্বোতভাবে সহযোগিতা করা শুরু করে।
শুরুর দিকে মুক্তিবাহিনী মুক্তিফৌজ নামে পরিচিত হয়; যার “ফৌজ” অংশটি মূলত আরবী; এটি বাংলা "বাহিনী" শব্দের পরিপূরক, যা পরে বিভিন্ন ভাষার মাধ্যমে বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে। এটি আগে বিভিন্ন শহরে ও গ্রামে সংগ্রাম পরিষদ নামে ছাত্র ও যুবকদের উদ্যোগে গঠিত হয় ১৯৭১ এর মার্চের শুরুর দিকে। এটা ঠিক পরিষ্কার নয় কিভাবে মুক্তিফৌজ মুক্তিবাহিনী নামে রূপান্তরিত হয়। তবে, নাম যাই হোক না কেন, এটা বাংলার মুক্তিকামী মানুষের সংগ্রামী বাহিনীকেই নির্দেশ করে।
১৯৬৯ সালের আইয়ুব খান বিরোধী আন্দোলনের সময় থেকে শুরু করে এবং শেখ মুজিবের ছয় দফা আন্দোলনের চূড়ান্তলগ্ন থেকেই পুর্ব পাকিস্তানের বাঙ্গালিদের ভেতর স্বাধীন হবার আন্দোলন শুরু হয়, যার মূলে ছিলেন জাতীয়তাবাদী ,প্রগতিবাদী এবং বামপন্থিরা। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পরবর্তিকালের সংকট এই ভাবনাকে আরো দৃড় করে । শেখ মুজিব নিজে এ বিষয়ে অন্যান্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর চাপে ছিলেন। বিশেষ করে কট্টর-জাতীয়তাবাদী তরুণ ছাত্র নেতারা চাচ্ছিলেন যে শেখ মুজিব যেন অবিলম্বে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন । কয়েকটি বামপন্থি এবং জাতীয়তাবাদী দল সশস্ত্র প্রস্তুতি নিচ্ছিলো, এবং বাঙ্গালি সেনা অফিসার ও সৈন্যরা পাকিস্তান সেনাবাহিনী ত্যাগ করতে প্রস্তুত ছিলো । শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে, ৩রা মার্চ হতে এবং ৭ই মার্চ পরবর্তি দিনগুলোতে, তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ একটি শান্তিপূর্ণ অসহযোগ আন্দলোনে যোগ দেয় যার ব্যাপ্তিকাল ছিলো ২৫-এ মার্চ ১৯৭১ এর মধ্যরাত পর্যন্ত। সেইদিন-ই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নিতে নিরস্ত্র জনতার উপর হামলা চালায় । ২৫-এ মার্চ ১৯৭১ এর রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এই হামলার সময়, কিছু স্বল্প ক্ষমতার প্রতিরোধ প্রচেস্টার খবর পাওয়া যায়, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর ইকবাল হল এবং রাজারবাগ পুলিশ হেডকোয়ার্টার-এ (এখানকার প্রতিরোধের মাত্রা ছিলো তীব্র)। রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ বেগবান হয়ে ওঠার সাথে তাল মিলিয়ে, মুক্তিকামী বাঙ্গালি এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীদের যুদ্ধের পরিবেশ গড়ে উঠল। সেনাবাহিনীর বাঙ্গালী সদস্যরাও পাকিস্তানের পক্ষ ছেড়ে দেশের নানান জায়গায় সমবেত হতে থাকলো।
মুক্তি বাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনীকে যৌথভাবে মিত্রবাহিনী বলা হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অধিনায়ক জেনারেল নিয়াজি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।

যুদ্ধকালীন সংগঠন

যদিও অপারেশন সার্চলাইট এর পাকিস্তানি পরিকল্পনাকারীরা বাঙ্গালিদের প্রতিরোধ দীর্ঘ হবে বলে প্রত্যাশা করেনি, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জনসাধারণের ওপর হামলা করার সময় থেকেই মুক্তিবাহিনী বারবার দৃশ্যপটে থাকলো । প্রথাগত গেরিলা রূপ ধারণ করার পূর্বে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত অফিসার, কর্নেল (পরবর্তীকালে জেনারেল) আতাউল গণি ওসমানী-এর নেতৃত্বে এই বাহিনীকে গড়ে তোলা হয় মুজিব এর আন্দোলনের সাহায্যকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে। স্বাধীনতার ঘোষণার পর, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এদেরকে দমন করার চেষ্টা করলেও কিন্তু গোপনে বেড়ে ওঠা এই "বাংলাদেশ সেনাবাহিনী" তে বিদ্রোহী বাঙ্গালি সৈন্যদের সংখ্যা বেড়েই চলছিল। এই বাঙ্গালি সৈন্য ইউনিটগুলো ধীরে ধীরে মুক্তিবাহিনীতে যুক্ত হয় এবং তাদের অস্ত্রশস্ত্রের ভাণ্ডার আরো মজবুত করে।
১৯৭১ সালের ১২ই এপ্রিল কর্নেল আতাউল গণি ওসমানী তেলিয়াপাড়া ( সিলেট ) হেডকোয়ার্টারে সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের ১২ই এপ্রিল ওসমানীকে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক নিয়োগ করা হয়। ১১-১২ই জুলাই এর মধ্যে বাংলাদেশ মুক্তি বাহিনীকে সংঘটিত করবার গুরুতর পদক্ষেপ নেয়া হয়। কোলকাতাতে সেক্টর কমান্ডারদের একটি সভায় যুদ্ধের কৌশল , বিদ্যমান সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ প্রতিরোধ পরিকল্পনার ওপর আলোকপাত করে চারটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেগুলো ছিলো :

যোদ্ধাদের গঠন এবং কৌশল হবে এরকম :

প্রতিটি গেরিলা দলে ৫ থেকে ১০ জন প্রশিক্ষিত যোদ্ধা থাকবে যাদের বাংলাদেশ এর নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় কিছু নির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হবে।

সাধারণ যোদ্ধারা শত্রুদের ওপর সম্মুখ হামলা চালাবে। এদের ৫০ থেকে ১০০ ভাগের কাছে অস্ত্র থাকবে। স্বেচ্ছাসেবক গোয়েন্দাদের নিয়োজিত করা হবে শত্রুদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে। এদের ৩০ ভাগ অস্ত্রে সজ্জিত থাকবে।

নিয়মিত বাহিনীকে ব্যটেলিয়ন এবং সেক্টর এ বিভক্ত করা হবে।

সামরিক অভিযানকালে নিম্নে বর্নিত কৌশলগুলো গ্রহণ করা হবে :

বিপুল সংখ্যক গেরিলাকে পাঠানো হবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আকস্মিক এবং ওঁৎ পেতে আক্রমণ চালাতে।

শিল্প কারখানাগুলিকে নিষ্ক্রিয় করতে হবে এবং বৈদ্যুতিক সরবরাহ ব্যাহত করা হবে।

পাকিস্তানিদের কাঁচামাল এবং প্রস্তুতকৃত পণ্য রপ্তানিতে বাধা দেয়া হবে ।

কৌশলগত সুবিধার জন্য শত্রুকে ছত্রভঙ্গ করতে হবে ।

পুরো বাংলাদেশ কে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হবে।

মূলত ভারতীয় সেনাবাহিনী দ্বারা প্রশিক্ষিত এবং অস্ত্রে সজ্জিত মুক্তিবাহিনী-এর বাইরেও পৃথক ( জাতীয়তাবাদী বা বামপন্থি ) নেতৃত্বে কিছু স্বতন্ত্র গেরিলা বাহিনী সফলভাবে কিছু জায়গা নিয়ন্ত্রণ করছিলো।

নিয়মিত ও অনিয়মিত বাহিনী

মুক্তিবাহিনীর "নিয়মিত বাহিনী" গঠন করা হয়েছিল ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট (EBR), ইষ্ট পাকিস্তান রাইফেলস (পরবর্তীতে বাংলাদেশ রাইফেলস বা BDR), পুলিশ, অন্যান্য আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং সাধারণ জনগন নিয়ে। এই বাহিনী বাংলাদেশব্যাপি ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল এবং নিয়ন্ত্রণ ছিলো সেনাবাহিনীর সদস্যদের হাতে। যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে নিয়ন্ত্রিত এবং সংঘবদ্ধ আক্রমণের জন্য তিনটি শক্তিশালী বাহিনী গঠন করা হয় - মেজর (পরবর্তীতে মেজর জেনারেল) জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড-ফোর্স, মেজর (পরবর্তীতে ব্রিগেডিয়ার) খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কে-ফোর্স এবং মেজর (পরবর্তীতে মেজর জেনারেল) কে. এম. শফিউল্লাহের নেতৃত্বে এস-ফোর্স.
অনিয়মিত বাহিনী, যাকে "গণ বাহিনী" নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে, গঠন করা হয়েছিলো গেরিলা যুদ্ধে প্রশিক্ষিত যোদ্ধাদের নিয়ে। এই বাহিনীর সদস্যরা ছিলো মূলত ছাত্র, কৃষক, শ্রমজীবী এবং রাজনৈতিক কর্মীরা। তাদের প্রাথমিক প্রশিক্ষনের পর বিভিন্ন সেক্টরে বিন্যস্ত করা হয়েছিলো। তাদের মূল দায়িত্ব ছিলো বাংলাদেশের ভেতরে পাকিস্তানী আর্মির বিরুদ্ধে গেরিলা কায়দায় চকিত আক্রমণ চালানো এবং যথাসম্ভব ক্ষতিসাধণ। নিয়মিত বাহিনী গতানুগতিক সম্মুখযুদ্ধে নিয়োজিত ছিলো।
মুক্তিবাহিনী মূলত দু'টি উৎস থেকে গড়ে উঠেছিলো - তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যগণ এবং শহর ও গ্রামের স্বেচ্ছাসেবক তরুণ ও যুবকেরা। এছাড়াও সংগ্রাম পরিষদ, আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, বামপন্থী-সমাজতান্ত্রিক দল ও উগ্রপন্থী কিছু দলের যুব ও ছাত্র সংগঠন সমূহও যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলো। মুক্তিবাহিনীর বেশ কয়েকটি ভাগ ছিলো। প্রথমত, একটি ভাগ ছিলো নিয়মিত সেনাসদস্যদের সংগঠিত করে তৈরি করা অংশ, যাদের "মুক্তিযোদ্ধা" বলা হয়ে থাকে। অপর একটি ভাগ ছিলো বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্সেস (Bangladesh Liberation Forces - BLF) (বাংলা:বাংলাদেশ স্বাধীনতা বাহিনী) নামে, যারা ছিলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আওয়ামী লীগের চার যুবনেতার দ্বারা সংগঠিত ছিলো। এর চলতি নাম ছিল মুজিব বাহিনী৤ আরেকটি ভাগের নাম ছিলো "বিশেষ গেরিলা বাহিনী" (Special Guerrilla Forces (SGF)), যা বামপন্থী দলসমূহের (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (Communist Party of Bangladesh), ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (National Awami Party), বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন (Bangladesh Students Union)) দ্বারা সংগঠিত হয়েছিলো। এই গেরিলা বাহিনী একত্রে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ গেরিলা আক্রমণ চালাতো, তাদের উদ্দেশ্য ছিলো চকিত আক্রমণ দ্বারা পাকবাহিনীর যথাসম্ভব ক্ষতিসাধণ করা। এই বাহিনীর কার্যক্রম সামাল দেওয়ার জন্য পাকবাহিনী কিছু সমান্তরাল আধা-সামরিক বাহিনী তৈরি করে, যেমন রাজাকার বাহিনী, আল-বদর বাহিনী, আল-শামস(মূলত তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী|জামাত-ই-ইসলামী]] ও অন্যান্য ধর্মভিত্তিক দলের সদস্যদের নিয়ে) বাহিনী। এছাড়াও তারা স্বাধীনতা-বিরোধী বাঙ্গালী ও বিহারীদেরকেও কাজে লাগায়। এই বিহারীরা ৪৭ এর দেশবিভাগের সময় ভারত ও পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে বসত গড়েছিলো। এই সব আধা-সামরিক বাহিনীগুলো জুন-জুলাইয়ে বর্ষার সময় পাকিস্তান বাহিনীর উপর মুক্তিবাহিনীর আক্রমণ কিছুটা হলেও ঠেকাতে পেরেছিলো।

বাংলাদেশ নৌ বাহিনী

১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশ নৌ বাহিনী গঠন করা হয়। প্রাথমিকভাবে, দু'টি জাহাজ ও ৪৫ জন নৌ-সেনা নিয়ে গড়ে তোলা হয় এই বাহিনী। এই দু'টি জাহাজ পাকিস্তানী যুদ্ধজাহাজের উপরে অনেক সফল আক্রমণ চালায়। ১০ই ডিসেম্বর জাহাজ দু'টি মংলা বন্দর আক্রমণের জন্য অগ্রসর হচ্ছিলো, কিন্তু দুঃখজনকভাবে, ভারতীয় যুদ্ধবিমান এই দু'টি জাহাজকে পাকিস্তানী যুদ্ধজাহাজ মনে করে ধ্বংস করে দেয়।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী

১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৮শে সেপ্টেম্বর, ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যাত্রা শুরু হয়। এর নেতৃত্বে ছিলেন এয়ার কমোডর এ.কে. খন্দকার। প্রাথমিকভাবে, ১৭ জন অফিসার, ৫০ জন টেকনিশিয়ান, ২টি বিমান ও ১টি হেলিকপ্টার দিয়ে এই বাহিনীর যাত্রা শুরু হয়। বিমান বাহিনী পাকিস্তানী লক্ষ্যের উপর বারোটিরও বেশি সফল আক্রমণ চালায় এবং ডিসেম্বরের শুরুর দিকে অত্যন্ত সফলতার সাথে ভারতীয় বাহিনীর আক্রমণের সাথে সমন্বয় রাখে।

স্বতন্ত্র বাহিনীসমূহ

মুক্তিবাহিনীর সাথে সাথে কিছু স্বতন্ত্র বাহিনীও বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলে পাক বাহিনীর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং কিছু এলাকা দখলমুক্ত করে। এদের মধ্যে একটি ছিলো ভারতে গড়ে ওঠা মুজিব বাহিনী। ভারতীয় সেনা বাহিনীর মেজর জেনারেল ওবান এবং ছাত্রলীগ নেতা সেরাজুল আলম খান, শেখ ফজলুল হক মণি, কাজী আরিফ আহমেদ, আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, আ. স. ম. আব্দুর রব, শাহজাহান সিরাজ, নুর-এ-আলম সিদ্দিকী ও আব্দুল কুদ্দুস মাখন প্রমূখ এই বাহিনী গড়ে তোলেন। এছাড়া টাঙ্গাইলের কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে "কাদেরিয়া বাহিনী", ময়মনসিংহের আফসার বাহিনী ও আফতাব বাহিনী, সিরাজগঞ্জের লতিফ মির্জা বাহিনী, মাগুরার আকবর হোসেইন বাহিনী, বরিশালের কুদ্দুস মোল্লা ও গফুর বাহিনী, ফরিদপুরের হেমায়েত উদ্দিনের নেতৃত্বে হেমায়েত বাহিনী ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও কিছু সমাজতান্ত্রিক/বামপন্থী দলও পাকিস্তান বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে এবং কিছু এলাকায় নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করে।

বামপন্থী দলসমূহ

উল্লেখিত স্বতন্ত্র বাহিনীগুলোর সাথে সাথে ন্যাপ ও কম্যুনিষ্ট পার্টির নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের কিছু বাহিনী গড়ে উঠে। তাদের মধ্যে সিরাজ শিকদার একটি শক্তিশালী গেরিলা বাহিনী গড়ে তুলেন যা বরিশালের পায়ারাবাগানে পাকিস্তানী বাহিনীর সাথে বেশ কয়েকটি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। যদিও এই বামপন্থী দলগুলোর মাঝে বাংলাদেশের স্বাধীনতার গতিপ্রকৃতি এবং করনীয় নিয়ে আদর্শগতভাবে বিপুল মতপার্থক্য ছিলো (তার মধ্যে সোভিয়েতপন্থী ও চীনপন্থী ফারাক এবং চীনপন্থীদের আন্তঃদল মতবিভেদ), মুক্তিবাহিনীর সাধারণ সদস্য ও নেতৃত্বস্থানীয়দের মধ্যে অনেকেই বামপন্থী ভাবধারায় গভীরভাবে উদ্‌বুদ্ধ ছিলেন। যে কারণে, ভারতীয় সরকার ও আওয়ামী লীগের সদস্যরা এই বামপন্থী দলগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কিছুটা উদ্‌বিগ্ন ছিলেন। যাই হোক না কেন, পরবর্তীতে বামপন্থী দলগুলো নিজেদের মতপার্থক্য ভুলে ঐক্যবদ্ধ হন এবং মুক্তিবাহিনীর মূল অংশটিকে কেন্দ্র করে তাদের যুদ্ধ চালিয়ে যান।

সাংস্কৃতিক যোদ্ধারা

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও কলাকুশলীরা (এম আর আখতার মুকুল, আপেল মাহমুদ (সংগীতশিল্পী), আব্দুল জব্বার (সংগীতশিল্পী), মোহাম্মদ শাহ প্রমূখ) মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার বিপুল উৎস ছিলেন। তাদের "সাংস্কৃতিক যোদ্ধা" বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে।

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টরবিন্যাস

মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর

মূল নিবন্ধ: মুক্তিযুদ্ধের সেক্টরসমূহ

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠনের পরপরই তা পাকবাহিনীর সাথে লড়াইয়ের দিকে মনোনিবেশ করে। ১১ই জুলাই ১৯৭১ মন্ত্রীসভার এক বৈঠকে কর্নেল এম এ জি ওসমানীকে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, লেফটেনেন্ট কর্নেল আব্দুর রবকে সেনা বাহিনী প্রধান ও ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকারকে বিমান বাহিনী প্রধান পদে নিয়োগ দেয়া হয়।
এই বৈঠকে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে  ভাগ করা হয় এবং প্রত্যেকটি সেক্টরের জন্য একজন সেক্টর কমাণ্ডার নিয়োগ দেয়া হয়। ১০নং সেক্টরকে সর্বাধিনায়কের সরাসরি তত্ত্বাবধানে দেয়া হয় এবং এতে নৌ-সেনা ও সর্বাধিনায়কের নিজস্ব বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
পাকিস্তান আর্মি থেকে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়া সেনা কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সেক্টরের দায়িত্বে নিয়োজিত করা হয়। এইসব প্রশিক্ষিত সেনা কর্মকর্তারা গেরিলা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিতেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে অপ্রশিক্ষিতদের প্রশিক্ষন দিতেন। এই প্রশিক্ষনকেন্দ্রগুলোর বেশিরভাগই সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকায় ছিলো এবং ভারত সরকারের সরাসরি সহায়তায় পরিচালিত হতো।
যুদ্ধে সামর্থ্য বাড়ানোর জন্য প্রতিটি সেক্টরকে আবার কয়েকটি উপ-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
।।।
আলম বাদশা

বাংলাদেশ বিষয়াবলীর গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

বিসিএস প্রিলি+ লিখিত +ভাইভা 
বাংলাদেশ বিষয়াবলীর গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য:-
১. বাংলাদেশের প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হলো ১০ এপ্রিল ১৯৭১ তারিখে ঘোষিত ' স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র'( যেটি সপ্তম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত )। 

২. বাংলাদেশের দ্বিতীয় অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হলো  ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২ তারিখে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক জারিকৃত 'Provisional Constitution of Bangladesh ' যা 'বাংলাদেশের অস্থায়ী সংবিধান আদেশ' নামে পরিচিত।

৩. 'বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ' জারি করা হয় ২২ মার্চ, ১৯৭২ সালে। সেটি ২৩ মার্চ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। গেজেটের ৭ নং অনুচ্ছেদে সংবিধান প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে।

৪. ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে (৭ ডিসে.) মোট ১৬৯ টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ১৬৭ টি আসন। 

৫. বাকী দুটির একটি পিডিপির নেতা নুরুল আমিন (ময়মনসিংহ আসন হতে)এবং অন্যটি রাজা ত্রিদিব রায়( স্বতন্ত্র হতে পার্বত্য চট্টগ্রাম আসন হতে) জয়ী হয়েছিলেন। উল্লেখ্য যে, এই একই নুরুল আমিনই কিন্তু খাজা নাজিমুদ্দিন  প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ১৯৫২ সালে পূর্ব বাংলার মূখ্যমন্ত্রী ছিলেন।

৬. ১৯৭০ সালে ইয়াহিয়া খান কর্তৃক বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে পাকিস্তানের প্রথম নির্বাচন কমিসনার নিয়োগ দেওয়া হয়( গত প্রাইমারি স্কুলের প্রশ্ন)। এই আবদুস সাত্তারকেই ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের সরকার বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বানিয়েছিলেন।

৭. ৭ ডিসেম্বর, ১৯৭০ হতে ১ মার্চ ১৯৭১ এর মধ্যে পাকিস্তানে সংঘটিত বিভিন্ন নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে ৪৬৯ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর মধ্যে নির্বাচনে মনোনয়নকারী দল থেকে বহিষ্কৃত হয় ৪৩ জন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মারা যান ৯জন--আমজাদ হোসেন, নজমুল হক, মশিউর রহমান, আবদুল হক, জিকরুল হক,ইমান উদ্দিন, সেয়দ আতর আলী, কে সফদর, আহমদ রফিক। এবং দুইজন সদস্য ( এস. এম. আলাউদ্দিন এবং মাহমুদ হাসান খান) গণপরিষদের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ১৫ ডিসে.'৭২ পর্যন্ত গণপরিষদের প্রথম স্পিকার শাহ আবদুল হামিদ সহ আরো তিনজন মারা যায়। এভাবে ৪৬৯ টির মধ্যে ৬৬ জন সদস্য পদত্যাগ ও মারা গেলে ৪০৩ সদস্য বাঁচে। 

ফলে, চুড়ান্ত  হিসেবে সংবিধান স্বাক্ষরের সময় গণপরিষদে মোট ৪০৩ জন সদস্য ছিলেন। তারমধ্যে ৩৯৯ জন বাংলাদেশ সংবিধানে স্বাক্ষর করেন। মোট চারজন স্বাক্ষর করেননি, এরা হলেন----

১. আজিজার রহমান রংপুর,
২. সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সিলেট 
৩. জালাল আহমদ কুমিল্লা, 
৪. মানবেন্দ্র লারমা পার্বত্য চট্টগ্রাম।

উল্লেখ্য যে, স্বাক্ষরকালীন ৪০৩ জনের মধ্যে ৪০০ জন সদস্যই ছিলেন আওয়ামীলীগের। বাকীগুলো  ন্যাপ এর ১ জন এবং স্বতন্ত্র ২জন ছিলেন।।

৮. প্রবাসী সরকার কলকাতা থেকে ঢাকা আসে ২২ ডিসেম্বর ১৯৭১ তে।

ভুল হলে ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখবেন, সঠিক তথ্য বিনয়ের সাথে উল্লেখ করবেন। ধন্যবাদ।
///
Prepared by Aslam Uddi.।

না ফেরার দেশে মৃণাল হক

না ফেরার দেশে মৃণাল হক
---------------------------------------
➡জন্ম: ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৫৮ (রাজশাহী)
➡পরিচিত: দেশের বরেণ্য ভাস্কর
➡শিল্পকর্ম: মতিঝিলের ‘বলাকা’ ভাস্কর্যটি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে নির্মিত 'গোল্ডেন জুবিলি টাওয়ার', রাজারবাগ পুলিশ লাইনে 'দুর্জয়', প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ‘রত্নদ্বীপ’, হোটেল শেরাটনের সামনে ‘রাজসিক’, পরীবাগ মোড়ে ‘জননী ও গর্বিত বর্ণমালা’, ইস্কাটনে ‘কোতোয়াল’, সাতরাস্তায় ‘ময়ূর’, মতিঝিলের ‘বক’, এয়ারপোর্ট গোল চত্বরের ভাস্কর্য, নৌ সদর দপ্তরের সামনে ‘অতলান্তিকে বসতি’, সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ের ভাস্কর্য, বঙ্গবাজারে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্যসহ বিভিন্ন ভাস্কর্যের
➡মৃত্যু: ২২ আগস্ট ২০২০

সংগৃহীত

শেয়ার বাজার

আজকে বাড়লে, কালকে আবার কমে। কালকে কমলে পরশু আবার বাড়ে। এ যেন তৈলাক্ত বাঁশে উঠানামা। কথাগুলো যেমন মিলে যাচ্চিলো শেয়ার বাজার এবং এর সূচক এর সাথে।

তবে আশার কথা হলো অনেকদিন ধরেই শেয়ার বাজারে মূল্য সূচক বাড়ছে। এর সঙ্গে লেনদেন ও বৃদ্ধি পেয়েছে। সূচক ও লেনদেনের বড় উত্থানের কারনে বাজার মূলধন আগের থেকে অনেক বেড়েছে। সূচক ও বাজারে মূলধন বাড়ায় ডিএসইতে লেনদেনের গতি যথেষ্ট বেড়েছে। 

প্রায় এখন সংবাদ মাধ্যমগুলোতে শেয়ার বাজার নিয়ে ইতিবাচক কলাম প্রকাশিত হচ্ছে। শেয়ার বাজারের এই ইতিবাচক পরিবর্তনের পিছনের যে বিষয়গুলো ভূমিকা রাখছে এবং রাখতে পারেঃ 

• ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণঃ ফ্লোর প্রাইস থাকার কারণে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা এটিকে নিরাপত্তা হিসেবে দেখছেন। যার প্রভাব পড়েছে বাজারে।
• প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোঃ শেয়ারেহোল্ডাররা আশাবাদী হয়ে যেমন শেয়ার কেনেন, আবার ভীত হলে একযোগে শেয়ার বিক্রি করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এতে বাজার টালমাটাল হয়ে পড়ে। বেচাকেনায় উত্থান-পতনটা হয় অস্বাভাবিক। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বাজারের নিয়ন্ত্রণ না নিলে এ অস্বাভাবিক ধারার থাকবেই। এক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে কার্যকর প্রচেষ্টা গ্রহন করতে হবে এবং সুষ্ঠু বিনিয়োগ ধারা সৃষ্টি করতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী সৃষ্টির ক্ষেত্রে প্রণোদনা দেয়া যেতে পারে। 
• সমন্বয়হীনতাঃ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এবং সরকারি অন্যান্য সংস্থার মধ্যে যে সমন্বয়হীনতা ছিল, তা কমে এসেছে। 
• পর্যবেক্ষণঃ বড় বিনিয়োগকারীদের অনেকে এতদিন বাইরে বসে পর্যবেক্ষণ করছিল। এখন তারাও বাজারে আসতে শুরু করেছে।
• সুদের হার কমে যাওয়াঃ ব্যাংকের ঋণ ও আমানতের সুদের হার কমার একটা প্রভাব পড়েছে বাজারে।
• শেয়ার বাজার সম্পর্কে ধারনা রাখাঃ বাজারের ঊর্ধ্বমুখী ধারায় গুজবে ও কানকথা শুনে আকৃষ্ট হয়ে প্রতিদিনই নতুন বিনিয়োগকারী আসছেন টাকা নিয়ে। দরপতনের ভীতি ছড়িয়ে পড়লে তারাই সবার আগে শেয়ার বিক্রি করেন। তখনই দরপতন ত্বরান্বিত হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সবাই। শেয়ার বাজার সম্পর্কে সাধারন ধারনা এখন ও অনেকের নেই বললে চলে।
• পর্যাপ্ত তারল্যঃ ব্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে। শেয়ার বাজারেও তারল্যের কোনও সংকট নেই। যে কারণে বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
• পদক্ষেপ গ্রহনঃ নিয়ন্ত্রক সংস্থার নতুন কমিশন বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপে বাজারের ওপর এ আস্থা বাড়ছে। যেমনঃ কয়েকটি দুর্বল কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) বাতিল করেছে। বাজারে এসব তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়াও বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। সব মিলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে।
• সিন্ডিকেট রেটঃ সিন্ডিকেটেড রেট (কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউজ সিন্ডিকেট করে কোনও কোম্পানির দাম নিজেরা বাড়িয়ে ও কমিয়ে বেচা-কেনা করে) নিয়ন্ত্রণ করলে এক্ষত্রে শেয়ার বাজারে পজিটিভ পরিবর্তন আসবে।
• বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপঃ কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকগুলোকে বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলে শেয়ারবাজারে মূল্য সূচকের বড় উত্থান হচ্ছে।
• দরপতনে আতঙ্কিত না হওয়াঃ বড় উত্থানের পর শেয়ারবাজারে টানা দরপতন হতে পারে। এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
• ২০০ কোটি টাকার তহবিলঃ প্রত্যেক ব্যাংককে শেয়ার বাজারের জন্য ২০০ কোটি টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। সেই টাকা এখন ছাড় হচ্ছে। অর্থাৎ এই টাকা পুঁজিবাজারে আস্তে আস্তে আসছে। যার প্রভাব পড়েছে বাজারে।
• ৫% সার্কিট ব্রেকারঃ লোয়ার প্রাইসে লাগানো হয়েছে ৫% সার্কিট ব্রেকার। অর্থাৎ, এখন কোন শেয়ার একদিনে ৫% এর বেশি কমতে পারবে না আর বাড়তে পারবে আগের মতোই ১০%৷ আর এই আইন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছেন বিএসইসি।
• পরিচালকদের শেয়ারঃ পরিচালকদের নামেমাত্র শেয়ার না থেকে একটা বড় অঙ্কের শেয়ার থাকা উচিত। কারন নামে মাত্র শেয়ার থাকলে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি আগ্রহ থাকবে না আর লভ্যাংশ ও ভালো দিবেনা এটাই স্বাভাবিক। তাই যেসব কোম্পানির শেয়ার পরিচালকদের হাতে নাই তাদের কে বাই ব্যাক আইন করে শেয়ার কিনতে বলা যেতে পারে।

অন্যান্য কিছু বিষয়ঃ

১) শেয়ার বাজার শব্দটির উত্থানঃ ইউরোপে শিল্প বিল্পবের সূচনা লগ্নেই শেয়ার বাজারের উৎপত্তি। ইউরোপের কৃষিজীবী মানুষেরা যখন শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে তখন শেয়ার প্রসঙ্গটির সূচনা হয়। একটি শিল্প প্রতিষ্ঠায় অনেক টাকার প্রয়োজন হয়, যাহা একজন ব্যক্তির পক্ষে যোগান দেয়া সম্ভব নয়। এ অবস্থায় যৌথমালিকানার প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ অনেক ব্যক্তি মিলে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। এভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় অনেক অংশীদারিত্ব সৃষ্টি হয়। এক একটি অংশীদারিত্ব মানেই এক একটি শেয়ার।
২) কেন শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতির সম্মুখীন হয়ঃ মনে করুন একটি শেয়ারের আসল মূল্য ১০০ টাকা। ৪র্থ বারের মত হাত বদল হয়ে দাম হলো ২০০ টাকা। এই পর্যায়ে যদি শেয়ারের দাম আর না বাড়ে তখন শেষের ব্যক্তি সরাসরি ক্ষতির মুখোমুখি হল। শেয়ারটির দাম দ্বিগুণ হবার পিছনে কারণটা হচ্ছে কারসাজি আর কিছু লোক না বুঝে হুজুগে লাভের আশায় শেয়ারটি কিনেছে। তাছাড়া একটি পক্ষ নিজেরাই এই শেয়ারটির দাম বাড়িয়েছে এবং নিজেদের লোকেরাই তা কিনেছে। এভাবে দাম বাড়িয়ে তা শেষোক্ত ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে নিজেরা সটকে পড়েছে। এতে কোম্পানির কোন মূলধনও বাড়েনি এবং দেশের অর্থনীতিরও কোন উপকার হয়নি। শেয়ারটির দাম দ্বিগুণ হলেও, কোম্পানির মূলধন কিন্তু ১০০ টাকাই রয়ে গেছে। শেয়ার বাজারে যারা বেশি ক্ষতির সম্মুখীন তারা সবাই কিন্তু শেষোক্ত শ্রেণির অর্ন্তভুক্ত। দাম না বাড়ার কারণে সেই শেয়ার আর বিক্রি করতে পারছে না। ফলে তারা ক্ষতির সম্মুখীন। এ অবস্থায় তারা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসতেও পারছে না।
৩) মূলধন কিভাবে সংগ্রহ করেঃ কোম্পানির মূলধন হিসেবে টাকা প্রয়োজন। এক্ষত্রে ব্যাংক থেকে নিতে পারে। তখন জামানত হিসেবে জমি কিংবা অন্য জিনিস বন্ধক রাখতে হবে। এবং সুদ ত আছেই। কোম্পানিটি বিকল্প হিসেবে শেয়ার বাজার থেকে টাকা নিতে পারে শেয়ার বিক্রি করে। এক্ষেত্রে বছরে যদি সুদের চেয়ে কম লভ্যাংশ দেয় তাহলে বরং তাদের আরো লাভ। এক্ষেত্রে কোম্পানিটি লোকসানে পড়লে ব্যাংক থেকে সম্পত্তি ক্রোকের সম্ভাবনা আছে যেটা শেয়ার বাজারের ক্ষেত্রে নেই। 

শেয়ার বাজার একটি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং অর্থনৈতিক চিত্রকে প্রতিফলিত করে। তাই দেশের উন্নতির স্বার্থেই শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। তার জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা, নীতিমালা এবং গাইডলাইন।

মোঃ জেনিথ আলম 
সহকারী প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা 
খাদ্য মন্ত্রণালয় 
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
(বিসিএস অডিট এন্ড একাউন্টস)

বঙ্গবন্ধুর ৩টি গ্রন্থ

বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা আলোচিত ৩টি বইয়ের সংক্ষেপ পরিচিতি সংক্ষেপে বঙ্গবন্ধুর ৩টি গ্রন্থঃ

★ ১ম গ্রন্থঃ অসমাপ্ত আত্মজীবনী
প্রকাশঃ জুন, ২০১২
প্রকাশকঃ দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (UPL)
প্রচ্ছদঃ সমর মজুমদার
ভূমিকা লিখেনঃ শেখ হাসিনা
যে সময়কালের ঘটনা স্থান পেয়েছেঃ ১৯৫৫
সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
অনূদিত হয়েছেঃ ১৩টি ভাষায় (সর্বশেষ -ইতালীয় ভাষায়)
প্রকাশিত হয়েছেঃ ১৪টি ভাষায়।

★ ২য় গ্রন্থঃ কারাগারে রোজনামচা
প্রথম প্রকাশঃ ১৭ মার্চ, ২০১৭
প্রকাশকঃ বাংলা একাডেমি
বইটির নাম দেনঃ শেখ রেহানা
ভূমিকা লেখেনঃ শেখ হাসিনা
প্রচ্ছদঃ তারিক সুজাত
যে সময়কালের ঘটনা স্থান পেয়েছেঃ ১৯৬৬-১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুর জেল জীবনের ঘটনা।
অনূদিত হয়েছেঃ ২টি ভাষায় - ইংরেজি ও অহমিয়া ভাষায়।
প্রকাশিত হয়েছেঃ ৩টি ভাষায় (বাংলা, ইংরেজি, অহমিয়া)

★ ৩য় গ্রন্থঃ আমার দেখা নয়াচীন
প্রকাশঃ ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ (বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে)
প্রকাশকঃ বাংলা একাডেমি
ভূমিকা লেখেনঃ শেখ হাসিনা
প্রচ্ছদঃ তারিখ সুজাত (তবে প্রচ্ছদে ব্যবহৃত সম্মেলনের লোগো শান্তির কপোত এর চিত্র আঁকেন - পাবলো পিকাসো।)
যে সময়কালের ঘটনাঃ ১৯৫২ সালে (২-১২) অক্টোবর চীন ভ্রমণের ঘটনা ও ১৯৫৭ সালে চীন ভ্রমণের স্থিরচিত্র।
বঙ্গবন্ধু রচনা করেনঃ ১৯৫৪ সালে জেলে থাকাকালীন

★ সবগুলো গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ করেনঃ অধ্যাপক ফকরুল আলম

Golam Morshed , Team Member, Zakir's BCS specials 
MSS (Economics)
University of Dhaka

ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পার্ট

বিসিএস প্রিলি প্রস্তুতি 
ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ 
পার্টঃ০৩

১। একুশের প্রথম কবিতা- কাঁদতে আসেনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি(রচয়িতা-মাহবুবুল আলম চৌধুরী) 
২। একুশের প্রথম গান- ভুলব না,ভুলব না...(রচয়িতা - ভাষাসংযোগ গাজিউল হক)
৩। ফাগুন হাওয়ায়- ৫২ নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ( নির্মাতা -তৌকির আহমদ)
৪। একুশের প্রামাণ্যচিত্র- বায়ান্নর' মিছিল ( নির্মাতা - রোকেয়া প্রাচী)
৫। ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করে - যুক্তফ্রন্ট সরকার 
৬। যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয় - ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর। 
৭। যুক্তফ্রন্টে সমমনা অংশগ্রহণকারী দল- ৪টি।
৮। ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ছিল - ১৬ টি।
৯। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল - নৌকা।
১০। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে কর্মসূচি ছিল- ২১ দফা।
১১। ২১দফা মেনিফেস্টোতে ভাষা সংক্রান্ত দফা ছিল - ৫টি।
১২। ৫৪ - সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় - ১১ মার্চ।
১৩। এ নির্বাচনে মোট আসন ছিল - ৩০৯ টি( মুসলিম - ২৩৭ অমুসলিম - ৭২)
১৪। যুক্তফ্রন্ট লাভ করে - ২৩৬ আসন( মুসলিম ২২৩ টি,অমুসলিম ১৩ টি)।
১৫। যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা গঠন করে- ৪ এপ্রিল ১৯৫৪ সালে।
১৬। যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ছিল- একে ফজলুল হক।
১৭। এ সরকারের কৃষি,সমবায় ও পল্লি উন্নয়ন মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন- শেখ মুজিবুর রহমান।
১৮। যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠনের উদ্দেশ্য ছিল- ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ কে কড়া জবাব দেওয়া।
১৯। পূর্ব বাংলার প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটে প্রথম সর্বজনীন নির্বাচন - ১৯৫৪ সালের নির্বাচন। 
২০। প্রামাণ্যচিত্র 'ভাষাজয়িতা' এর নির্মাতা- শবনম ফেরদৌসী (এতে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী রওশন আরা বাচ্চু,হালিমা খাতুন,সোফিয়া আহমেদ, সোফিয়া খান,রাণী ভট্টাচার্য এবং প্রতিভা মুৎসুদ্দি - এই ছয় ভাষা সৈনিকের গল্প নিয়ে নির্মিত) 

মাজাহারুল ইসলাম ( আনন্দমোহন কলেজ) , Team Member , Zakir's BCS specials

১৯৭১ সালের যুদ্ধ: মুক্তিযুদ্ধ নাকি স্বাধীনতা যুদ্ধ ? মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা যুদ্ধের পার্থক্য

বিসিএস রিটেন ও ভাইভা প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ 😎

#১৯৭১ সালের যুদ্ধ: মুক্তিযুদ্ধ নাকি স্বাধীনতা যুদ্ধ/মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা যুদ্ধের পার্থক্য

মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা যুদ্ধ শব্দ দুটি আমরা এক ও অভিন্ন ভাবে ব্যবহার করলেও শব্দ দুটির মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক। ছোট একটা উদাহরণ টেনে বলছি।

ঘটনা-১: দু ভাই জমি/সম্পত্তি নিয়ে মারামারি করে আলাদা হল।
ঘটনা-২: বড় ভাই ছোট ভাইকে বহুদিন ধরে খাবার, পোশাক, শিক্ষা, হাত-খরচাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ঠকাচ্ছে। এসব থেকে মুক্তির জন্য ছোট ভাই বিদ্রোহ ঘোষণা করল এর মারামারি করে নিজের অংশ বুঝে নিয়ে আলাদা হল।

খেয়াল করুন, প্রথম ঘটনায় শুধু জমি/সম্পত্তি ভাগ হয়েছে এবং দ্বিতীয় ঘটনায় জমির পাশাপাশি অন্যান্য শোষণ থেকেও মুক্ত হয়েছে। এখানে প্রথম ঘটনাটি হচ্ছে স্বাধীনতা সংগ্রাম (দু ভাই আলাদা/স্বাধীনতা)। আর দ্বিতীয় ঘটনাটি হচ্ছে মুক্তির সংগ্রাম। 

অর্থাৎ স্বাধীনতার আলোচ্য হচ্ছে রাজনৈতিক-ভূগোল এবং মুক্তিসংগ্রামের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে রাজনৈতিক, জাতিমুক্তি, অর্থনৈতিক, সামাজিক, শ্রেনী-শোষন হতে মুক্তি (৩১ ডিসেম্বর, ২০১৩, ইত্তেফাক)। পৃথিবীর বহু দেশ মাতৃরাষ্ট্র হতে স্বাধীন হয়েছে শুধু সীমানা রেখে টেনেই। যেমন: ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন। তাদের কিন্তু অর্থনৈতিক কিংবা শ্রেনীর বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়নি। তার মানে, এগুলোকে স্বাধীনতা বলা যায়, মুক্তি বলা যায় না।

দেখুন, একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে ‘স্বাধীনতা’ শব্দটি উচ্চারণ করেছেন একবার, কিন্তু ‘মুক্ত’ ও ‘মুক্তি’ শব্দ উচ্চারণ করেছেন কয়েকবার। তিনি বলেছেন, ‘দেশের মানুষ অর্থনীতি, রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক মুক্তি’ চায় (২৬ মার্চ, ২০১৯, প্রথম আলো)। 

#তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ কী ছিল? 🤔

উত্তরটা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই দিয়ে গেছেন। বলেছেন "এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম"। অর্থাৎ, সংগ্রামটা স্বাধীনতা ও মুক্তি- দুটোর জন্যই। ১৯৭১ সালে যে যুদ্ধ সেটার পটভূমি শুধু ১৯৭১ (স্বাধীনতার সংগ্রাম) নয়, সেটার পটভূমি ১৯৫২-১৯৭১। মুক্তি সংগ্রামের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে ৫২ থেকে সংস্কৃতি, শিক্ষা, চাকুরি, বাণিজ্য সহ বিভিন্ন বিষয়ে পশ্চিমা পাকিস্তানের নিষ্পেষণের মধ্য দিয়ে আর সেটার পূর্ণতা পেয়েছে ১৯৭১ এর যুদ্ধের মধ্য দিয়ে। 

আরেকটা উদাহরণ প্রশ্ন রেখে শেষ করছি। ১৭৭৫-১৭৮৩ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য ও এর তেরটি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল ঐ এলাকা থেকে বিট্রিশ বিতাড়ন। এটা যুক্তরাজ্যের জাতীয় চেতনার বিরুদ্ধে ছিল না। বলুন তো, এটা কি স্বাধীনতা সংগ্রাম নাকি মুক্তি সংগ্রাম? 
রেজওয়ানুল হক রাব্বি

বাংলাদেশের উপজাতি ক্ষুদ্র জাতিসত্তা নৃগোষ্ঠী একনজরে

♦বাংলাদেশের উপজাতি_ক্ষুদ্র_জাতিসত্তা_নৃগোষ্ঠী নিয়ে  একনজরেঃ

১। বাংলাদেশে বর্তমানে আদিবাসী বা উপজাতির সংখ্যা -৫০টি
নোটঃকম বা বেশি হতে পারে আপডেটটা জেনে নিবেন
২। জনসংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশের বৃহত্তম ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী - চাকমা
৩। সংখ্যাগত বিচারে বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম উপজাতি - মারমা (মগ)
৪। সংখ্যাগত বিচারে বাংলাদেশের ৩য় বৃহত্তম উপজাতি - সাঁওতাল 
৫। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মূলত মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশের। এরা বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে রয়েছে। 
৬। 'চাকমা' শব্দের অর্থ মানুষ। 'ম্রো' শব্দের অর্থও মানুষ। 
৭। উপজাতিদের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান 'বিরিশিরি' নেত্রকোনায় অবস্থিত।
৮। স্বাধীনতা যুদ্ধে একমাত্র বীরবিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মারমা অধিবাসী ইউ কে চিং।

৯। অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন উপজাতিদের বসবাসঃ

♦♦♦দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলঃ

♦চাকমা- পার্বত্য চট্টগ্রাম (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান)  ও কক্সবাজার।  তবে রাঙ্গামাটিতে সবচেয়ে বেশি চাকমা বসবাস করেন।

♦মারমা- পার্বত্য চট্টগ্রাম ( খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান)।মারমারা বহুপূর্বে 'মগ' নামে পরিচিত ছিলো। 

♦ত্রিপুরা - পার্বত্য চট্টগ্রাম ( খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান), চট্টগ্রাম, নোয়াখালী। খাগড়াছড়ি ত্রিপুরাদের প্রধান আবাসস্থল। তারা 'টিপরা' নামেও পরিচিত। 

♦♦মুরং   - বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ের পাদদেশে তাদের বসবাস করতে দেখা যায়। তাদের 'ম্রো বা মারুসা' নামেও ডাকা হয়।

♦তঞ্চঙ্গ্যা- পার্বত্য চট্টগ্রাম ( রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান),  চট্টগ্রাম, কক্সবাজার

♦লুসাই - পার্বত্য চট্টগ্রাম (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবন) 
♦পাংখোয়া- রাঙ্গামাটি, বান্দরবান

♦খুমি -  বান্দরবান 

♦রাখাইন - পটুয়াখালী, বরগুনা, কক্সবাজার।
 পটুয়াখালী জেলায় সবচেয়ে বেশি রাখাইন রয়েছে। এরা মূলত মায়ানমার থেকে এসেছে। 

♦♦বিঃদ্রঃ পার্বত্য চট্টগ্রামে ১১টি জাতিসত্তা বসবাস করে। তাদের মধ্যে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা,  মুরং, তঞ্চঙ্গ্যা, পাংখোয়া, লুসাই, খুমি অন্যতম। ত্রিপুরাদের (টিপরা) বাংলাদেশের সিলেট ও কুমিল্লা জেলাতেও বসবাস করতে দেখা যায়। 

♦♦উত্তর-পূর্ব অঞ্চলঃ

♦গারো - ময়মনসিংহ (গারো পাহাড়), শেরপুর, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, টাঙ্গাইল। 
তাদের অন্যনাম ' মান্দি'

♦খাসিয়া- সিলেট ( জৈয়ন্তিকা পাহাড়),  হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ।
♦তাদেরকে 'খাসি' বলেও আখ্যায়িত করা হয়। 

♦মণিপুরী- মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ। তাদের প্রধান আবাসস্থল মৌলভীবাজার। তাদেরকে 'মৈ তৈ' নামেও অভিহিত করা হয়। 

♦হাজং- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর, সিলেট 

♦পাঙন- মৌলভীবাজার 

♦♦উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলঃ

♦সাঁওতাল - দিনাজপুর (প্রধান আবাসস্থল),  রংপুর, নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ। 

♦রাজবংশী - রংপুর (প্রধান আবাসস্থল) ,দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া 

♦ওরাওঁ - দিনাজপুর, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া 

♦♦কোল - চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী।  এরা 'মুন্ডা' নামেও পরিচিত। 

♦♦বিঃদ্রঃ ময়মনসিংহ জেলাতেও রাজবংশী উপজাতির বসবাসের  অস্তিত্ব রয়েছে। 

১০। উপজাতিদের জীবনধারাঃ
বাংলাদেশের অধিকাংশ উপজাতিরা পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার অন্তর্গত।  নিচে কতিপয় পিতৃতান্ত্রিক উপজাতিদের সমাজব্যবস্থা আলোকপাত করা হলো-

★চাকমা সমাজঃ পিতৃতান্ত্রিক। গ্রামকে বলে 'আদাম বা পাড়া'। মৌজাপ্রধানকে
                বলা হয় 'হেডম্যান'। তাদের প্রধান  পেশা হলো কৃষি। জুমচাষ করাই                  
                তাদের লক্ষ্য। উপজাতিদের মধ্যে চাকমারা সবচেয়ে বেশি শিক্ষিত। 
★মারমা সমাজঃ পিতৃতান্ত্রিক। গ্রামকে বলে 'রোয়া'। মৌজাপ্রধান হলেন হেডম্যান।      
                মারমারা ১৯৬১ সালে 'মগ ' নাম পরিত্যাগ করে বর্তমান 'মারমা' নামটি        
                ধারণ করে। তাদের প্রধান কাজও কৃষি। 
★সাঁওতাল- পিতৃতান্ত্রিক। সমাজের মূলভিত্তি হচ্ছে 'গ্রাম-পঞ্চায়েত'। 
★ মণিপুরী - পিতৃতান্ত্রিক। 
★ত্রিপুরা- পিতৃতান্ত্রিক। তারা দলবদ্ধভাবে বাস করে। দলকে তারা 'দফা' বলে।
★ মুরং- পিতৃতান্ত্রিক। তারা তাদের বাড়িকে 'কিম' বলে।
★লুসাই- পিতৃতান্ত্রিক। 
★ওরাওঁ- পিতৃতান্ত্রিক। তাদের গ্রামপ্রধানকে 'মাহাতো' বলে।
★রাজবংশী- পিতৃতান্ত্রিক। 
★হাজং- পিতৃতান্ত্রিক। 
★খুমি- পিতৃতান্ত্রিক। 

এবার কতিপয় মাতৃতান্ত্রিক উপজাতিঃ

★গারো সমাজ- মাতৃতান্ত্রিক। প্রথাগত আইন অনুযায়ী, পারিবারিক সম্পত্তির            
             মেয়েরা। গারো জনগোষ্ঠী নিজেদেরকে 'আচিকমান্দি' (পাহাড়ের মানুষ)        
             বলে পরিচয় দিয়ে থাকে।
★খাসিয়া - মাতৃতান্ত্রিক।  খাসিয়া গ্রামগুলো 'পুঞ্জি' নামে পরিচিত।  পুঞ্জিপ্রধানকে  বলা হয় 'সিয়েম'। বাড়িতে মেহবান এলে তারা ' চা-পান-সুপারী' দিয়ে              
             আপ্যায়ন করে।

১১। উপজাতিদের ভাষাঃ
♦চাকমা - চাকমা ভাষা
♦মারমা- পালি/ প্রাইমাজা
♦সাঁওতাল - সাঁওতালি 
♦ত্রিপুরা - ককবরক
♦গারো- আচিক খুসিক/ মান্দি
♦মুরং- ম্রো
♦মণিপুরী - মৈ তৈ/ মণিপুরী ভাষা
♦রাখাইন- আরাকানী/ রাখাইন ভাষা
♦ওরাওঁ-  কুরুখ/ শাদরি
♦খাসিয়া- মন খেমে
♦হাজং- হাজং ভাষা
♦রাজবংশী- কামরূপী রাজবংশী
♦কোল- কোল/মান্দারী/ খেড়োয়াড়ী

১২। উপজাতিদের ধর্মঃ

♥♥আদিবাসীদের অধিকাংশ বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী

♦বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী- চাকমা, মারমা, মুরং, রাখাইন 

♦হিন্দু ধর্মের অনুসারী - সাঁওতাল, ত্রিপুরা 

♦সনাতন ধর্মের অনুসারী - মণিপুরী 

♦খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী - গারো, খাসিয়া

♦ ইসলাম ধর্মের অনুসারী - পাঙন , মৈ তৈ পাঙন, লাউয়া

♦প্রকৃতির উপাসক- ওরাওঁ

১৩। উপজাতিদের উৎসবঃ
চাকমাঃ
বর্ষবরণ অনুষ্ঠানকে বলা হয় বিজু।
ফাল্গুনী পূর্ণিমা এদের ধর্মীয় উৎসব।

মারমাঃ
মারমা বর্ষবরণ উৎসবের নাম- সাংগ্রাই।

রাখাইনঃ
রাখাইন বড় ধর্মীয় উৎসব - বুদ্ধপূর্ণিমা
বর্ষবরণ উৎসবের নাম সান্দ্রে।
মুরংঃ
 মুরংদের দেবতার নাম ওরেং
মুরং উপজাতির বর্ষবরণ উৎসবের নাম ছিয়াছত।

গারোঃ
গারোদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নাম ওয়ানগালা।
বর্ষবরণ উৎসব বৈসাবি।

#তথ্য সহযোগিতায়ঃ মোঃ_দেলোয়ার_হোসেন 
প্রভাষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ,ডেমরা কলেজ,ঢাকা-১৩৬
মোঃ আনিছুর রহমান, সদস্য। 
জাকির'স বিসিএস স্পেশাল'স।

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ (বাংলার ম্যাগনাকার্টা/বাংলার মুক্তির সনদ)

বিসিএস প্রিলি + লিখিত +ভাইভা
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ (বাংলার ম্যাগনাকার্টা/বাংলার মুক্তির সনদ)
---------------------------------------------
★ তারিখ: ৭ই মার্চ ১৯৭১ সাল(রবিবার)।
বাংলায় :২২ ফাল্গুন, ১৩৭৭ বঙ্গাব্দ।

★ শুরুর :বিকেল ৩টা ২০মিনিট।

★ স্থান : তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান( বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান )ঢাকা।
ঐতিহাসিক স্থানটি স্বাধীনতা চত্বর নামেও পরিচিত।

★ বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ভিডিও রেকর্ড করেন,
   --- " অাবুল খায়ের" 
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম কর্পোরেশন। 
তিনি এ ভাষণটি  রেকর্ড করার জন্য ২০১৪ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা দিবস পদক লাভ করেন।
★ ৭ মার্চের ভাষণের সাউন্ড রেকর্ডকারী-
     এ এইচ খন্দকার।
★মাইকের নাম-- ''কল রেডি" ।

★ ভাষণের স্থায়িত্ব : 
ভাষণ দেন ২৩ মিনিট ।কিন্তু রেকর্ড করা হয় ১৯ মিনিট/১৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড / ১৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড।

★মোট শব্দ : ১১০৮টি
★সর্বমোট বিধি :৩৫ টি

★ ভাষণটি অনূদিত হয়েছে :১২ টি ভাষায় (৪৩টি ভাষায় অনুবাদের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে) ।
★ভাষণটি ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে ৫ম তফসিলে সংযোজন করা হয়েছে।

★ রেসকোর্সে উপস্থিত ছিল: প্রায় ১০ লাখ মানুষ।

★ ভাষণে উপস্থাপন করা হয় : ৪ দফা দাবি।
★ দাবি ৪ টি হলো:
        ১. সামরিক আইন (মার্শাল লো) প্রত্যাহার করতে হবে।
        ২. সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে।
        ৩. ১৯৬৯ সালের সহ এই গণহত্যার তদন্ত করতে হবে।
        ৪. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

★এ ভাষণে ৩ জন পাকিস্তানি ব্যাক্তির কথা উল্লেখ রয়েছে।
তারা হলেন --- ইয়াহিয়া খান,ভুট্টো সাহেব এবং মার্শাল লো জারি কারী আইয়ুব খান।

★ মূল বক্তব্য: স্বাধীনতা তথা মুক্তির সংগ্রামের ঘোষণা।
         "এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম"।

★এ ভাষণের 
১ম উক্তি : ভাইয়েরা আমার।
শেষ উক্তি: জয় বাংলা। 

★উল্লেখযোগ্য অংশ : "রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো
                    ইনশাল্লাহ"।

★এই  সময় সারাদেশে ৩ মার্চ থেকে অসহযোগ আন্দোলন  চলছিলো।
★ ভাষণের প্রেক্ষাপট :১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাকিস্তানের সামরিক শাসকগোষ্ঠী এই দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বিলম্ব করতে শুরু করে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান ৩রা মার্চ জাতীয় পরিষদ অধিবেশন আহ্বান করেন। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে ১লা মার্চ এই অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি ঘোষণা করেন। এই সংবাদে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ২রা মার্চ ঢাকায় এবং ৩রা মার্চ সারাদেশে একযোগে হরতাল পালিত হয়। তিনি ৩রা মার্চ পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় সমগ্র পূর্ব বাংলায় সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এই পটভূমিতেই ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় বিপুল সংখ্যক লোক একত্রিত হয়; পুরো ময়দান পরিণত হয় এক জনসমুদ্রে। এই জনতা এবং সার্বিকভাবে সমগ্র জাতির উদ্দেশ্যে শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণটি প্রদান করেন।

★ ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর UNESCO এই ভাষণকে
     Memory of the World Register এর অন্তর্ভুক্ত করে।
    - ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক পরামর্শক কমিটি (IAC)
      ১৩০টি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল, নথি ও
      বক্তৃতার মধ্যে ৭৮টি বিষয়কে নির্বাচিত করে, এর
       মধ্যে ৭ মার্চ ভাষণের অবস্থান ৪৮তম।
   - ফ্রান্সের প্যারিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি          "মোঃ শহিদুল ইসলাম "       ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি        "মফিদুল হক"       বাংলাদেশের পক্ষ  থেকে ৭ মার্চ ভাষণের স্বীকৃতির জন্য      " ১২ পৃষ্ঠার" 
      একটি আবেদন পত্র প্রেরণ করেন।
 - স্বীকৃতির স্বপক্ষে ১০টি প্রয়োজনীয় তথ্য, নথি ও
    প্রমাণপত্র জমা দেয়া হয়।

★ প্যারিসে ইউনেস্কো কার্যালয়ে অন্তর্ভুক্তির ঘোষণা দেন
 -----মহাপরিচালক ইরিনা বেকোভা।

★ ব্রিটিশ ঐতিহাসিক জ্যাকব এফ ফিল্ডের ভাষণ  সংকলনের ইংরেজি অনূদিত  "We shall  fight of the beaches:  "The Speech the Inspired History"  বইতে ২০১ পৃষ্টায় 
 বিশ্বের সেরা ৪১টি ভাষণের মধ্য স্থান পেয়েছে ৭ই  মার্চের ভাষণ।
★ জ্যাকবের বইয়ে ভাষণটির শিরোনাম দেয়া হয়েছে
     The Struggle : This Time is the Struggle for   Independence.

 ★বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট
     আব্রাহাম লিংকনের ৩ মিনিটের "গেটিসবার্গ "বক্তৃতার সাথে তুলনা করা হয়।

★"শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ কেবল একটি ভাষণ নয়,এটি একটি অনন্য রণকৌশলের দলিল" উক্তিটি করেছেন 
--কিউবার অবিসংবাদিত নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো।

★ "৭ মার্চের ভাষণ আসলে ছিল স্বাধীনতার মূল  দলিল" উক্তিটি করেছেন
---বর্ণবাদবিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা।

★১৩ নভেম্বর ২০১৭-তে ঐতিহাসিক এ ভাষণের উপর
    একটি বিশ্লেষণধর্মী বই "বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ:
     রাজনীতির মহাকাব্য" শিরোনামে 
আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে ই-বুক ও মোবাইল অ্যাপ হিসেবে উদ্বোধন করা হয়।

★৭ মার্চের ভাষণের উপর
 নির্মিত চলচ্চিত্র  ----- ওরা ১১ জন
পরিচালক :চাষী নজরুল ইসলাম।
★রচিত কবিতাঃ " স্বাধীনতা শব্দটি    কিভাবে আমাদের হলো "
রচিয়তা : নির্মলেন্দু গুন। 

★এ ভাষণকে "রাজনৈতিক কাব্য" বলে আখ্যায়িত করেছেন 
--- নির্মলেন্দু গুন

★এ ভাষণটি মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রচারিত হতো ---" বজ্রকন্ঠ "নামে
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে।

★এ ভাষণটি ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রস্তুতির গ্রীন সিগন্যাল। 

★এ ভাষণের জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে "রাজনৈতিক কবি " (Poet of Politics)" উপাধি দিয়েছে----
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজউইক (Newsweek)  ম্যাগাজিন ৫ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।

(সংগৃহীত)

সংবিধান জানুন

বিসিএস প্রিলি + লিখিত +ভাইভা 

#সাংবিধানিক সংস্থাঃ

১) জাতীয় সংসদ বা আইন বিভাগ
২) সুপ্রিম কোর্ট বা বিচার বিভাগ
৩) সরকারি কর্ম কমিশন
৪) নির্বাচন কমিশন

[#সংবিধিবদ্ধ]() পদঃ

১) এ্যাটর্নী জেনারেল
২) ন্যায়পাল

[#রাষ্ট্রপতি](পদাধিকারবলে প্রধানঃ

১) বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক
২) পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর
৩) বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি
৪) বাংলাদেশ স্কাউট
৫) এশিয়াটিক সোসাইটি

[#প্রধানমন্ত্রী](পদাধিকারবলে প্রধানঃ

১) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটি(ECNEC)
২) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ(NICAR)
৩) জাতীয় প্রশাসন পুর্নগঠন/সংস্কার/বাস্তবায়ন কমিটি(NICAR)
৪) বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ গভর্নিং বোর্ড
৫) বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ড।

[#সাংবিধানিক]() পদ সমুহঃ(৯টি)

১.রাষ্ট্রপতি
২.প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী
৩. স্পিকার ,ও ডেপুটি স্পিকার
৪. সংসদ সদস্যগণ
৫. প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতি
৬. নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার
৭.অ্যাটর্নি জেনারেল
৮. সরকারি কর্ম কমিশন চেয়ারম্যান
৯. মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক

১৫ আগস্টে নিহতদের নিয়ে সামরিক কর্মকর্তার প্রতিবেদন

❐❐ ১৫ আগস্টে নিহতদের নিয়ে সামরিক কর্মকর্তার প্রতিবেদনঃ
১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট রাত তিনটায় ঢাকা সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডারের আদেশে আমি প্রয়াত শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে যাই। স্টেশন কমান্ডার আগেই পৌঁছে গিয়েছিলেন। মেজর বজলুল হুদা ও তাঁর লোকজন পাহারা দিচ্ছিলেন বাড়িটি। হুদা আমাকে প্রথমে বাধা দিলেও পরে ঢোকার অনুমতি দেন।
১. সড়ক নম্বর ৩২, শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি: সব কটি লাশ সিঁড়ির গোড়ায় আনা হলো। রাখা হলো কাঠের কফিনে। বরফ আনা হয়েছিল। রক্ত, মগজ ও হাড়ের গুঁড়া ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল প্রথম তলার দেয়াল, জানালার কাচ, মেঝে ও ছাদে। বাড়ির সব বাসিন্দাকেই খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গুলির আঘাতে দেয়ালগুলোও ঝাঁঝরা হয়ে যায়। খোসাগুলো মেঝেতে পড়ে ছিল। কয়েকটি জানালার কাচ ভেঙে গুঁড়িয়ে যায়। চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল ঘরের জিনিসপত্র, গিফটবক্স ও সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিয়েগুলোর উপহারের প্যাকেট। পবিত্র কোরআন শরিফও মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখলাম। শেখ মুজিবের বাড়িতে নয়জনকে হত্যা করা হয়েছিল। লাশগুলো (প্রদত্ত রিপোর্ট মতে) যে অবস্থায় পাওয়া যায়:
(I). শেখ মুজিব: প্রথম তলার সিঁড়ির মাঝখানটায় যে সমতল অংশটি, তার তিন-চার ধাপ ওপরে। চশমার ভাঙা কাচ ও একটি পাইপ সিঁড়িতে পড়ে ছিল।
(ii). শেখ কামাল: অভ্যর্থনাকক্ষে।
(iii). টেলিফোন অপারেটর: অভ্যর্থনাকক্ষে।
(iv). শেখ নাসের: নিচতলার সিঁড়িসংলগ্ন বাথরুমে।
(v). বেগম মুজিব: মূল বেডরুমের সামনে।
(vi). সুলতানা কামাল: মূল বেডরুমে।
(vii). শেখ জামাল: মূল বেডরুমে।
(viii). রোজী জামাল: মূল বেডরুমে।
(ix). শিশু রাসেল: মূল বেডরুমে, তার দুই ভাবির মাঝখানে।
২. বাড়ির সব বাসিন্দাকেই খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। দেখে মনে হচ্ছিল, তাঁদের সবাই তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণ হারান।
• শেখ মুজিব: প্রথম তলার সিঁড়ির মাঝখানে যে সমতল জায়গা, তার তিন-চার ধাপ ওপরে একেবারে কাছ থেকে গুলি করে শেখ মুজিবকে খুন করা হয়। তাঁর তলপেট ও বুক ছিল বুলেটে ঝাঁঝরা। শেখ মুজিব সব সময় চশমা পরতেন এবং তাঁর ধূমপানের অভ্যাস ছিল। তাঁর চশমা ও তামাকের পাইপটা সিঁড়িতে পড়ে ছিল। পরনে চেক লুঙ্গি ও পাঞ্জাবি। চশমার একটি গ্লাস ভাঙা। রক্তে পাঞ্জাবির রং ছিল গাঢ় লাল। একটি বুলেট তাঁর ডান হাতের তর্জনীতে লাগে এবং আঙুলটি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
• বেগম মুজিব: বেগম মুজিবকে বুকে ও মুখমণ্ডলে গুলি করা হয়। তাঁর পরনে ছিল সুতির শাড়ি এবং কালো রঙের ব্লাউজ। গলায় মাদুলি বাঁধা একটি সোনার নেকলেস। কনিষ্ঠা আঙুলে ছোট্ট একটি আংটি। তখনো তাঁর পায়ে ছিল একটি বাথরুম স্লিপার!
• সুলতানা কামাল: সুলতানা কামালের বুকে ও তলপেটে গুলি লাগে। পরনে ছিল শাড়ি ও ব্লাউজ।
• শেখ জামাল: শেখ জামালের মাথা চিবুকের নিচ থেকে উড়ে গিয়েছিল। পরনে ট্রাউজার। ডান হাতের মধ্যমায় ছিল একটি মুক্তার আংটি। সম্ভবত এটি ছিল তাঁর বিয়ের আংটি
• রোজী জামাল: তাঁর মুখটি দেখাচ্ছিল বিবর্ণ, মলিন। মাথার একাংশ উড়ে গিয়েছিল। তাঁর তলপেট, বুক ও মাথায় গুলি করা হয়। পরনে ছিল শাড়ি ও ব্লাউজ।
• শিশু রাসেল: সম্ভবত আগুনে তার পা ঝলসে যায়। মাথা উড়ে গিয়েছিল। পরনে ছিল হাফপ্যান্ট। লাশ একটি লুঙ্গিতে মোড়ানো ছিল।
• শেখ কামাল: কামালের বুক ও তলপেটে তিন থেকে চারটি বুলেট বিদ্ধ হয়। তাঁর পরনে ছিল ট্রাউজার। নিচতলায় তাঁকে খুন করা হয়।
• শেখ নাসের: শেখ নাসেরকে খুন করা হয় বাথরুমের কাছে। তাঁর হাত উড়ে গিয়েছিল। গুলিতে তাঁর দেহের বেশ কিছু স্থান ছিল ক্ষতবিক্ষত। তাঁর গায়ে কোনো পোশাক ছিল না এবং লাশ বিছানার চাদরে মোড়ানো ছিল।
• টেলিফোন অপারেটর: তাঁকে নিচতলায় খুন করা হয়।
৩. মেঝেতে ছড়ানো-ছিটানো ছিল সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জামাল ও কামালের বিয়ের অনেক উপহারসামগ্রী ও গিফট প্যাকেট। কিছু বাক্স ছিল ফাঁকা। কামালের কক্ষে রুপার তৈরি অনেক জিনিসপত্র দেখা যায়। সিঁড়িটি ছিল আল্পনা আঁকা। অভ্যর্থনাকক্ষটি ছিল নোংরা। আমি ওপরতলা থেকে শুনলাম নিচতলায় হুদা চিৎকার করছেন। তিনি এ বাড়ি থেকে কিছু জিনিসপত্র চুরি করায় কয়েকজন সেপাইকে গালাগাল দিচ্ছিলেন।
৪. সড়ক নম্বর ১৩/১, ধানমন্ডি, শেখ মনির বাড়ি: মনি ও তাঁর সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে তাঁদের এই বাড়িতে খুন করা হয়। তাঁদের বাড়ির দিকে ‘সেনাবাহিনীর গাড়ি’ আসতে দেখে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব ছেড়ে সরে যান। বাড়িটি ছিল আংশিক তছনছ করা। মেঝেতে স্পষ্ট রক্তের দাগ। মাঝের টেবিলে একটি অ্যালুমিনিয়ামের বাটিতে কিছু ভেজানো চিড়া।
৫.৩৭ মিন্টো রোড, আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাড়ি: মন্ত্রীর বাড়িটি ছিল ফাঁকা। ড্রয়িংরুমজুড়ে দেখা গেল জমাট বাঁধা রক্ত। বাড়ির নিরাপত্তা পুলিশ আগেই পালিয়ে গিয়েছিল!
৬. সেরনিয়াবাত ও শেখ মনি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে সংগ্রহ করা হয়। লাশগুলো ছিল বিকৃত। তাপ ও আর্দ্রতা লাশের ক্ষতি করে। লাশ থেকে দুর্গন্ধ বেরোচ্ছিল। বনানী গোরস্থানে দাফনের জন্য আমরা লাশগুলো সেনানিবাসে নিয়ে এলাম। শেখ মুজিবের লাশ ছাড়া ৩২ নম্বর সড়কের অন্য সবার লাশও আরেকটি ট্রাকে করে সেখানে আনা হয়।
দাফন-কাফন সম্পর্কে প্রতিবেদনঃ
১. মৃতদেহ সংগ্রহ: ১৫ আগস্টের ঘটনায় নিহতদের লাশ ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়ক এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে সংগ্রহ করা হয়। দুটি ট্রাকে করে ১৮টি লাশ দাফনের জন্য আনা হয়। বনানী গোরস্থানে দাফনের জন্য গুলশান মিউনিসিপ্যালিটি থেকে অনুমতি নেওয়া হয়। এএসসি (আর্মি সার্ভিসেস কোর) সেপাইদের একটি প্লাটুন গোরখোদকের কাজ করে। স্টেশন কমান্ডার আগেই আমাকে বলেছিলেন, ১৬ আগস্টের দিনের প্রথম আলো ফোটার আগেই যাতে দাফনের সব কাজ শেষ হয়ে যায়!
২. দাফন: আগস্ট মাসের তাপ ও আর্দ্রতায় কিছু লাশ বিকৃত হয়ে গিয়েছিল। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে কোনো ফ্যান ছিল না। ৩২ নম্বরের লাশগুলোতে বরফ দেওয়া ছিল। ফলে সেগুলোর অবস্থা ছিল অপেক্ষাকৃত ভালো। সেপাইদের কয়েকজন ছিলেন, যাঁরা খুবই গলা চড়িয়ে কথা বলছিলেন। শেখ মুজিববিরোধী মনোভাব প্রকাশ করছিলেন তাঁরা। ফলে আমাকে গোটা পরিস্থিতিকেই সতর্কতার সঙ্গে সামাল দিতে হয়। অবশ্য কোনো লাশেরই যাতে অমর্যাদা না হয়, আমি সেটি নিশ্চিত করেছিলাম। সেপাইদের কয়েকজন কবর খুঁড়তে অনীহা প্রকাশ করেন, লাশের খারাপ অবস্থার কারণে কয়েকজন এমনকি ছুঁতে পর্যন্ত রাজি ছিলেন না। আমি নিজে প্রথম মৃতদেহটি (বেগম মুজিবের) ওঠাই এবং চিরশয্যায় শায়িত করি। শেখ নাসেরের দেহাবশেষ একইভাবে দাফন করি। এরপর আর আমার সমস্যা হয়নি। ৪ নম্বর ছাড়া বাকি প্রায় সব কটি কবর ঠিকভাবে খোঁড়া হয়। কারণ, আমরা সূর্যোদয়ের আগেই সব সেরে ফেলার জন্য তাড়াহুড়া করছিলাম। গোরস্থানমুখী সড়কগুলোতে আমরা আগেই সেপাই মোতায়েন এবং গোরস্থান এলাকায় ‘কারফিউ’ জারি করি। ভোরে ঘুম ভাঙা কিছু লোক ও পথচারী কী ঘটছে, বোঝার চেষ্টা করলে তাদের নিরুৎসাহিত করা হয়।
৩. ৭ নম্বর সারির চারপাশে বেড়া দেওয়া হয় এবং অস্থায়ী চৌকি বসিয়ে ২৪ ঘণ্টা পাহারার ব্যবস্থা করা হয়। অনির্দিষ্টকালের জন্য গোরস্থানটিতে দাফনের কাজ বন্ধ ও দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।
৪. মৃতদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র: কয়েকটি লাশের সঙ্গে কিছু গয়না পাওয়া যায়। একটি তালিকা তৈরি করে গয়নাগুলো স্টেশন কমান্ডারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
৫. শেখ মুজিবের দাফন: ১৬ আগস্ট ১৯৭৫ বেলা ১১টায় শেখ মুজিবের লাশ সেনাবাহিনীর একটি ট্রাকে করে ক্যান্টনমেন্টে আনা হয়। কাফন কেনা হয় সিএসডি (ক্যানটিন স্টোরস ডিপার্টমেন্ট) থেকে। এটি কেনা হয়েছিল বাকিতে! অর্ডিন্যান্সের জিডিও (গ্যারিসন ডিউটি অফিসার) মেজর মহিউদ্দিন আহমেদকে লাশের সঙ্গে টুঙ্গিপাড়া যাওয়ার খুঁটিনাটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। একটি বিএএফ (বাংলাদেশ এয়ারফোর্স) হেলিকপ্টারযোগে লাশ দাফনের জন্য টুঙ্গিপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মৃতদেহের গোসল ও জানাজা দেওয়া হয়। জানাজায় শেখ মুজিবের চাচাসহ ডজনখানেক লোক শরিক হন! একটি অস্থায়ী চৌকি বসিয়ে কবরটি পাহারার জন্য রক্ষী মোতায়েন করা হয়। জিডিও টুঙ্গিপাড়া থেকে ফিরে সদর দপ্তরের মিলিটারি অপারেশনসের ডিরেক্টরের কাছে তাঁর রিপোর্ট পেশ করেন।
৬. নিহত ব্যক্তিদের বাড়িগুলো সিল করা হয়: শেখ মুজিব, শেখ মনি ও সেরনিয়াবাতের বাড়ি তালাবদ্ধ করে সিলগালা করা হয় এবং চাবি স্টেশন সদর দপ্তরে রাখা হয়।
৭. অনেক বাধাবিপত্তি ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা আমাদের সাধ্যমতো সর্বোচ্চ যত্ন ও মর্যাদার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করি।
বনানী গোরস্থান: সারি নম্বর ৭–এ যাঁদের কবর দেওয়া হয়ঃ
১. বেগম মুজিব, ২. শেখ নাসের, ৩. শেখ কামাল, ৪. সুলতানা কামাল, ৫. শেখ জামাল, ৬. রোজী জামাল, ৭. শিশু রাসেল, ৮. অজ্ঞাতপরিচয় ১০ বছর বয়সী একটি বালক, ৯. ফাঁকা, ১০. অজ্ঞাতপরিচয় ১২ বছর বয়সী একটি বালক, ১১. গৃহপরিচারিকা, বয়স ৪৫, ১২. অজ্ঞাতপরিচয় ১০ বছর বয়সী একটি ফুটফুটে বালিকা, ১৩. শেখ মনি, ১৪. মিসেস মনি, ১৫. অজ্ঞাতপরিচয় ২৫ বছর বয়সী এক যুবক, ১৬. অজ্ঞাতপরিচয় ১২ বছর বয়সী একটি বালক, ১৭. আবদুর রব সেরনিয়াবাত, ১৮. অজ্ঞাতপরিচয় ২৫ বছর বয়সী এক যুবক।
নোট: ৯ নম্বর কবরের নাঈম খানের লাশ লে. আবদুস সবুর খানের (এনওকে) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।
মেজর আলাউদ্দিন আহমেদ
আর্টিলারি
স্টেশন স্টাফ অফিসার
স্টেশন হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা সেনানিবাস, ঢাকা।
১৮ আগস্ট ১৯৭৫

খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর: জীবন ও সৃষ্টি

খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর: জীবন ও সৃষ্টি
(প্রখ্যাত ভাষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর সুযোগ্য সন্তান,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক)
© রবিউল আলম লুইপা
========================================

- মুর্তজা বশীর Murtaja Baseer (জন্ম: ১৭ আগস্ট ১৯৩২ - মৃত্যু: ১৫ আগস্ট ২০২০) একাধারে চিত্রশিল্পী, কার্টুনিস্ট, শিক্ষক, কবি, চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিল্প নির্দেশক, গবেষক, মুদ্রা বিশারদ এবং ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী। তার বাবা বিশিষ্ট ভাষাবিজ্ঞানী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

- কর্মজীবনে তিনি স্বাধীনতা পদক (২০১৯), একুশে পদক (১৯৮০), শিল্পকলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৭৫), সুলতান পদক (২০০৩) সহ অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেন। 

- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক ভাস্কর্য তার বিখ্যাত সৃষ্টি। বাংলাদেশে বিমূর্ত বাস্তবতার চিত্রকলার অন্যতম পথিকৃৎ মুর্তজা বশীরের দেয়াল, শহিদ শিরোনাম, পাখা ছাড়াও বেশকিছু উল্লেখযোগ্য চিত্রমালা রয়েছে। "রক্তাক্ত ২১শে" শিরোনামে ভাষা আন্দোলন নিয়ে লিনোকাট মাধ্যমে একটি চিত্রকর্ম করেছেন। পেইন্টিং ছাড়াও ম্যুরাল, ছাপচিত্রসহ চিত্রকলার বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি কাজ করেছেন।

- তিনি আল্ট্রামেরিন (১৯৫৪), খাচার পাখির গান (১৯৬৯), মিতার সংগে চার সন্ধ্যা ও অমৃতাক্ষর প্রভৃতি উপন্যাস লিখেন।  তার প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ "পারবে না" (১৯৬৪)।
তার লেখা "মুদ্রা ও শিলালিপির আলোকে বাংলার হাবসী সুলতান ও তৎকালীন সমাজ" ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
দিলরুবা, সমকাল এবং সওগাত পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করেছেন। ১৯৬৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলা চলচ্চিত্র "নদী ও নারী" এর সহকারী পরিচালক এবং একই বছর মুক্তিপ্রাপ্ত উর্দু চলচ্চিত্র "কাইছে কাহোন" এর পরিচালক ছিলেন।

-১৯৪৯ সালে ঢাকা গভর্নমেন্ট ইনষ্টিটিউট অব আর্টস (বর্তমান চারুকলা ইনস্টিটিউট)-এ দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে মুর্তজা বশীর চারুকলা শিক্ষা শুরু করে ১৯৫৪ সালে পাঁচ বছর মেয়াদী শিল্প শিক্ষা শেষ করে প্রথম বিভাগে পাশ করেন। এরপর ১৯৫৬ সালে মুর্তজা বশীর উচ্চতর শিক্ষার জন্য বাবার অর্থে ইতালির ফ্লোরেন্সে যান। আকাদেমিয়া দ্য বেল্লি আর্টিতে এক বছর চিত্রকলা এবং আরেক বছর ফ্রেসকো নিয়ে পড়াশোনা করেন।

- ১৯৭৩ সালের আগস্টে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে। ১৯৯৮ সালে অধ্যাপক হিসাবে অবসর নেন।

- খ্যাতনামা এই শিল্পী বলেন, “তিনি আরও বলেন, ছবি আঁকা অনেকটা সন্তান প্রসবের মতো। পূর্ণ সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার জন্য নয় মাস দশ দিন ধরে বহন করতে হয়। তার আগে হলে অসম্পূর্ণ হয়। তবে একটা জিনিস আছে, ধরো আমি ঠিক করেছি কোন কোন রং দিয়ে আঁকব। নীল কমলা। কিন্তু আঁকতে গিয়ে দেখলাম পেলেটে অন্য রং আছে। লাল সবুজ। তখন আমি ওই রং ফেলে দেই না। ওই রং দিয়েই আঁকি। রং ফেলে দিতে মায়া লাগে। যে রং দিয়ে যেভাবে আঁকব ভেবেছিলাম। আঁকতে গিয়ে সেটা বদলে ফেলতে হয়। হয়তো ভেবে রাখা ছবিটিই আঁকছি, তবে ভেবে রাখা রঙে নয়। এর কারণ হলো, আমাদের দেশে রং পাওয়া যায় না। আরেকটা ব্যাপারও আছে। কোনো ধরাবাঁধা রঙে আটকে থাকতে চাই না। আর্টিস্টের যদি কোনো রঙের প্রতি দুর্বলতা থাকে তাহলে শিল্প সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।”

- চিত্রশিল্প নিয়ে এই শিল্পীর উৎসাহ যেমন ছিল, বাস্তবজীবন নিয়ে আক্ষেপও কম ছিল না। “ছেলেমেয়েরা কেউ আঁকাআঁকি করে না। ছোট মেয়েটা চেয়েছিল। আমি উৎসাহ দিইনি। চিত্রশিল্পীর জীবন বড় কষ্টের। আমি চাইনি আমার ছেলেমেয়েরা এই কষ্ট করুক। ছোটবেলায় আমিও আসলে ভাবিনি আর্টিস্ট হব। আমার বাবাও বলেছিলেন, প্যারিসে আমি দেখেছি আর্টিস্টের জীবন খুব কষ্টের। আমি চাই না আমার ছেলে সেই কষ্টের ভেতর দিয়ে যাক। পরে অবশ্য রাজি হন তিনি”- মর্তুজা বশীর (একুশে টেলিভিশন ১৬ আগস্ট, ২০১৮)।

- মুর্তজা বশীর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার এভারকেয়ার (সাবেক অ্যাপোলো) হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২০ সালের ১৫ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। অতীত কিংবা বর্তমানকে বিশ্বাস করতেন না মুর্তজা বশীর। তার বিশ্বাস ছিল ভবিষ্যতে। তিনি বলতেন মৃত্যুর পরও বেঁচে থেকে সময়কে অতিক্রম করতে পারাই জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। সেই অর্জনের পেছনেই হয়ত তাড়িত হয়ে একজন মুর্তজা বশীর বৃত্তাবদ্ধ হননি শুধু চিত্রশিল্পী পরিচয়ে। আজীবন বেচে থাকুক অপরাজেয় এই শিল্পী তার সৃষ্টির মধ্যদিয়ে।

তথ্যসূত্রঃ
Wikipedia.org
www.ekushey-tv.com (১৬ আগষ্ট, ২০১৮)
www.somoynews.tv (১৫ আগষ্ট, ২০২০)

স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম পরিবর্তনের সুপারিশ

#আপডেটঃ
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর  নাম পরিবর্তনের সুপারিশ । 

ইউনিয়ন পরিষদ= পল্লী পরিষদ
পৌরসভা= নগরসভা।
সিটি কর্পোরেশন = মহানগর সভা।
সিটি মেয়র =আধিকারিক।
পৌর মেয়র = পুরাধ্যক্ষ।
চেয়ারম্যান = পল্লী পরিষদ প্রধান।
///
১৮৮৫ সাল থেকে ১৯১৯ সাল পর্যন্ত বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের নাম ছিল ইউনিয়ন কমিটি। এরপরে ইউনিয়ন কমিটি ভেঙে নতুন কমিটির নামকরণ করা হয় ইউনিয়ন বোর্ড। এরপরে ইউনিয়ন বোর্ডের নাম পরিবর্তন করে ইউনিয়ন কাউন্সিল করা হয়। ১৯৭১ সালে ইউনিয়ন কাউন্সিলের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ত্রাণ কমিটি। ১৯৭২ সালের ১ জানুয়ারি ইউনিয়ন কাউন্সিল ও ত্রাণ কমিটি ভেঙে ইউনিয়ন পঞ্চায়েত নামকরণ করা হয়। পরে ১৯৭৩ সালের দিকে ইউনিয়ন পঞ্চায়েত-এর নাম পরিবর্তন করে নাম রাখা হয় ইউনিয়ন পরিষদ।
///

শেখ মুজিবকে মিশরের উপহার দেয়া ট্যাংক যেভাবে তার হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছিল

❑❑ শেখ মুজিবকে মিশরের উপহার দেয়া ট্যাংক যেভাবে তার হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছিলঃ 

১৯৭৪ সালে মিশরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আনোয়ার আল সাদাত বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে ৩০টি ট্যাংক উপহার দিয়েছিলেন। অথচ সেই ট্যাংক শেখ মুজিবকে হত্যার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ই অগাস্ট।
শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের সাথে হত্যার সময় ঘাতক সেনা কর্মকর্তারা শহরে ত্রাস সৃষ্টির জন্য সেসব ট্যাংক ব্যবহার করেছিল। যদিও সেসব ট্যাংকে কোন গোলাবারুদ ছিলনা।

মিশর কেন ট্যাংক উপহার দিয়েছিল?
১৯৭৩ সালে আরব ইসরায়েল যুদ্ধের সময় সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ আরবদের সমর্থন দিয়েছিল। আরবদের প্রতি সমর্থন এবং ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে মিশরে চা পাঠিয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর মিশরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আনোয়ার আল সাদাত বাংলাদেশের পাঠানো উপহারের কথা ভোলেননি। ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মিশরের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফরে আসেন।
তখন আনোয়ার আল সাদাতের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবকে জানানো হয় যে মিশর বাংলাদেশকে ৩০টি ট্যাংক উপহার দিতে চায়। উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের অস্ত্রভাণ্ডার গড়ে তোলা।
পাকিস্তানী সাংবাদিক অ্যান্থনী মাসকারেণহাস তার লেখা 'বাংলাদেশ: আ লিগ্যাসি অব ব্লাড' বইতে সে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। সে বইটির বাংলা অনুবাদ করা হয়েছে 'বাংলাদেশ রক্তের ঋণ' শিরোনামে। ১৯৮৮ সালে অনুবাদ করা সে বইটি প্রকাশ করেছে হাক্কানি পাবলিশার্স।
অ্যান্থনী মাসকারেণহাস- এর বর্ণনা অনুযায়ী শেখ মুজিবুর রহমান ট্যাংক গ্রহণ করতে খুব একটা রাজি ছিলেন না। কিন্তু পররাষ্ট্র দপ্তর এবং মন্ত্রীরা তাকে বোঝাতে সক্ষম হন যে মিশরের উপহার ফিরিয়ে দেয়া ঠিক হবে না।
এই ট্যাংকগুলো নিয়ে আসার জন্য তৎকালীন সেনাবাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল মিশর সফরে যায়। ১৯৭৪ সালের জুন মাস নাগাদ এসব ট্যাংক বাংলাদেশে আসে।
তখন ঢাকা ব্রিগেড কমান্ডার ছিলেন, মইনুল হোসেন চৌধুরী, যিনি মেজর জেনারেল হিসেবে অবসর নিয়েছেন এবং ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্যতম উপদেষ্টা ছিলেন। ২০১০ সালে জেনারেল চৌধুরী মৃত্যুবরণ করেন।
তার লেখা 'এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য: স্বাধীনতার প্রথম দশক' বইতে মিশরের উপহার দেয়া ট্যাংক সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে।
জেনারেল মইনুল লিখেছেন, তিনি শেখ মুজিবের কাছে মতামত দিয়েছিলেন যে, মিশর থেকে দেয়া ট্যাংকগুলো ঢাকায় রাখার প্রয়োজন নেই এবং প্রশিক্ষণ দেবার সুযোগ-সুবিধা নেই।
"একদিন কথা প্রসঙ্গে আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ট্যাংকগুলোকে উত্তরবঙ্গের রংপুর সেনানিবাসে পাঠানোর প্রস্তাব করি। ..কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আমার কথার কোন গুরুত্ব দেননি। দু:খজনক হলেও সত্যি, ১৯৭৫ সালে মুজিব হত্যার সময় ওই ট্যাংকগুলোই ব্যবহার করা হয়েছিল।" মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত, যিনি নিজেও পরবর্তীতে সৈন্যদের দ্বারা হত্যার শিকার হয়েছেন।

মুজিব হত্যাকাণ্ড ও মিশরের দেয়া ট্যাঙ্কঃ
১৯৭৫ সালের ১৫ই অগাস্ট ভোর চারটার দিকে ঘাতক ফারুক রহমানের সহযোগী এবং অনুগত সৈন্যরা পরিকল্পনা অনুযায়ী সংগঠিত হতে লাগলো।
ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে রাতের আঁধারে এতো বড় ধরণের প্রস্তুতি গোয়েন্দারা টের পায়নি কেন সেটি আজও এক বিরাট প্রশ্ন।
জড়ো হওয়ার আধাঘণ্টার মধ্যেই ফারুক রহমান তার বাহিনী নিয়ে যাত্রা শুরু করলো।
সাংবাদিক অ্যন্থনী মাসকারেণহাস-এর বর্ণনা অনুযায়ী গন্তব্যের পথে ফারুক ক্যান্টনমেন্টের গোলাবারুদের সাব-ডিপোর সামনে থামলো।
সে ধারণা করেছিল সেখানে ট্যাংকের গোলাবারুদ এবং মেশিনগানের কিছু বুলেট পাওয়া যাবে। কামানের ব্যারেলের ধাক্কায় ডিপোর দরজা খোলা হলো।
কিন্তু সেখানে গোলাবারুদ বা মেশিনগানের বুলেট কিছুই পাওয়া যায়নি।
মাসকারেণহাস লিখেছেন, " সুতরাং ধোঁকা দিয়ে কার্যসিদ্ধি করা ছাড়া আর কোন গতি রইলো না।"
ফারুকের ট্যাংক বহর যখন এগিয়ে যাচ্ছিল তখন ৪র্থ এবং ১ম বেঙ্গল পদাতিক বাহিনীর একদল সৈন্যের সাথে তাদের দেখা হলো।
এ সময়ে তারা প্রাত:কালীন পিটি করতে বের হয়েছিল। কিন্তু ফারুকের নেতৃত্বে ট্যাংক বহর প্রশিক্ষণ এলাকা ছাড়িয়ে শহরের মূল সড়কের দিকে গেলেও কারো মনে কোন প্রশ্ন জাগেনি।
ফারুক রহমানসহ ঘাতকদের মনে তৎকালীন রক্ষীবাহিনী নিয়ে উদ্বেগ ছিল। তারা ভেবেছিল, মুজিবকে হত্যা করতে গেলে রক্ষীবাহিনীর তরফ থেকে প্রতিরোধ আসতে পারে।
সেজন্য ক্যান্টনমেন্ট থেকে ট্যাংকের বহর নিয়ে বের হয়ে ফারুক রহমান গিয়েছিল শেরে বাংলা নগরে রক্ষীবাহিনীর সদরদপ্তরে। আরেকটি দল গিয়েছিল শেখ মুজিব, শেখ ফজলুল হক মনি এবং আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের বাড়িতে।
তখন রক্ষীবাহিনীর উপপরিচালক ছিলেন আনোয়ার উল আলম। ২০১৩ সালে তার লেখা 'রক্ষী বাহিনীর সত্য-মিথ্যা' বই প্রকাশিত হয়।
সে বইতে তিনি লিখেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ই অগাস্ট ভোররাতে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের টেলিফোনে তার ঘুম ভাঙ্গে।
শেখ মুজিবুর রহমান তাকে বলেন, "শহীদ, মনির (শেখ মনির) বাসায় কালো পোশাক পরা কারা যেন অ্যাটাক করেছে। দেখ তো কী করা যায়?"
এরপর বিভিন্ন মারফত তিনি জানতে পারেন যে রাষ্ট্রপতির বাসায় হামলা হয়েছে। তার বাড়ির পাশেও একটি গোলা এসে পড়ে।
আনোয়ার উল আলম লিখেছেন, "ঢাকা বিমানবন্দরের দেয়াল ভেঙ্গে কয়েকটি ট্যাংক রক্ষী বাহিনীর প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছে। আমরা বুঝতে পারি, সেনাবাহিনীর একটি অংশ বিদ্রোহ করেছে এবং তারাই অভ্যুত্থান সংগঠিত করছে।"
"আমরা সঙ্গে সঙ্গে রক্ষীবাহিনীর সবাইকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিই। সরোয়ার (তৎকালীন রক্ষীবাহিনীর উপপরিচালক) দেশের বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে রক্ষীবাহিনীর সদস্যদের তৈরি থাকতে বলেন।"
মি. আলমের বর্ণনা অনুযায়ী ঢাকায় প্রতিরোধ গড়ার মতো কোন শক্তি রক্ষীবাহিনীর ছিলনা।

ট্যাংক নিয়ে ধোঁকা দিয়েছিল ফারুক রহমানঃ 
১৯৭৫ সালের ১৫ই অগাস্ট সকাল ১০:৩০ মিনিট নাগাদ ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ব্রিগেড হেডকোয়ার্টারে কর্নেল সাফায়াত জামিলের রুমে আসেন সাখাওয়াত হোসেন।
মি.হোসেন পরবর্তীতে ব্রিগেডিয়ার হিসেবে অবসর নেন এবং ২০০৭ সালে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ই অগাস্ট ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসেন তার 'বাংলাদেশ: রক্তাক্ত অধ্যায় ১৯৭৫-৮১' বইতে।
ব্রিগেডিয়ার হোসেন লিখেছেন, সেখানে কিছুক্ষণ পরে ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফ এবং তার একটু পরে মেজর ফারুক রহমান (হত্যাকারী) আসেন।
ট্যাংকের কালো পোশাক পরিহিত অবস্থায় মেজর ফারুক সে রুমে প্রবেশ করেন। মেজর ফারুক তখন বলেন, তার ট্যাংকে কোন গোলাবারুদ নেই।
ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত লিখেছেন, "এই প্রথম আমি জানলাম যে, ফারুকের কোন ট্যাংকেরই মেইন গানের কোন গোলাবারুদ রাতের অভিযানের সময় এবং প্রায় সকাল ১০টা পর্যন্ত ছিলনা। .... ফারুক আরো জানালো গোলাবারুদ না থাকা সত্ত্বেও তারা খালি ট্যাংক নিয়ে সকলকে, এমনকি রক্ষীবাহিনীকেও ফাঁকি দিতে পেরেছে।"
"১৫ই অগাস্টে যখন বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে হামলা করা হয় তখন ফারুক দুটো ট্যাংক নিয়ে শেরেবাংলা নগরে রক্ষীবাহিনী হেডকোয়ার্টার ঘিরে ফেলে এবং সেখানে উপস্থিত ব্যাটালিয়নকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে।"
শেখ মুজিবকে হত্যা জন্য ফারুক রহমান যেসব ট্যাঙ্ক নিয়ে রাস্তায় বের হয়েছিলেন সেগুলোতে কোন গোলাবারুদ ছিলনা। সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেণহাসের বইতেও এ তথ্য উঠে এসেছে।
মি. মাসকারেণহাস ঘাতক ফারুক রহমানের সাক্ষাৎকারও নিয়েছিলেন।
তার সাথে কথোপকথনের ভিত্তিতে মাসকারেনহাস লিখেছেন, " ফারুক আমাকে পরে জানিয়েছিল, মনস্তাত্ত্বিক অস্ত্র হিসেবে ট্যাংকগুলো যে কতটা কার্যকরী তা খুব কম লোকই জানে। ট্যাংক দেখে জীবনের ভয়ে পালাবার চেষ্টা করবে না, এমন সাহসী লোক খুব কম পাওয়া যাবে।"
ফারুক যখন ট্যাংক নিয়ে রক্ষীবাহিনীর সদরদপ্তরের দিকে যাচ্ছিল তখন তার মনেও সন্দেহ এবং উদ্বেগ ছিল।
যেহেতু ট্যাংকে কোন গোলাবারুদ ছিলনা সেজন্য ফারুক রহমার তার সহযোগীদের বলেছিল চোখে মুখে সাহসী ভাব ফুটিয়ে রাখতে।
অ্যান্থনী মাসকারেণহাসকে ফারুক রহমান বলেন, " আমরা যখন ওদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন রক্ষীবাহিনীর লোকেরা অবাক হয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে দেখছিল। আমরা তাদের দিকে তীক্ষ্ণ-ভাবে তাকিয়ে ছিলাম। সে ছিলো এক ভয়ঙ্কর অবস্থা। আমি ড্রাইভারকে বললাম, ওরা যদি কিছু করতে শুরু করে, দেরি না করে তাদের উপরেই ট্যাংক চালিয়ে দেবে।"
"তার আর দরকার হয়নি।...নিজেদের সামনে হঠাৎ ট্যাঙ্ক দেখে, ওরা গায়ের মশা পর্যন্ত নাড়াবার সাহস পেলনা।"
অ্যান্থনী মাসকারেনহাসের সাথে সাক্ষাৎকারে ফারুক রহমান স্বীকার করেন, ঐ অবস্থায় কেউ যদি তাকে সত্যিকারভাবে প্রতিরোধ করতে চাইতো, তাহলে তার কিছুই করার থাকতো না। 

https://www.bbc.com/bengali/news-53777630
★ লিংক: ইসলামিক লাইব্রেরি PDF (Google Drive)

bcspedia.blogspot.com

১। স্বপ্ন যাদের বিসিএস – অভিজ্ঞদের পরামর্শ


২। বিসিএস নিয়ে প্রচলিত ১০ ভুল ধারণা


৩। বিসিএস (প্রশাসন)-কে কেন সকল ক্যাডার এর রাজা বলা হয়


৪। যদি কূটনীতিক হতে চাও


৫। বিসিএস প্রিলিমিনারি - বাংলা


৬। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে ২৫ পরামর্শ


৭। ইংরেজির ভয় করতে জয় যা মানতে হয়


৮। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ভাল করার কৌশল: ইংরেজি সাহিত্য


৯। বিসিএস পরীক্ষায় ভাল করার কৌশল: গণিত


১০। বিসিএস পরীক্ষায় ভাল করার কৌশল: ত্রিকোণমিতি ও পরিমিতি


১১। বিসিএস পরীক্ষায় ভাল করার কৌশল: কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি


১২। সাধারণ জ্ঞান, বিজ্ঞান, ভূগোল ও পরিবেশ অংশে ভালো করার উপায়


১৩। সাধারণ জ্ঞানে অসাধারণ হওয়ার কৌশল


১৪। প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নিয়ে কিছু কথা


১৫। বিসিএসের প্রস্তুতি: গাণিতিক যুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি


১৬। ভূগোল ও নৈতিকতায় ভালো করতে চাইলে


১৭। বিসিএসের বই পড়াই সব নয়


১৮। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার শেষ মুহূর্তে



https://english-grammarblog.blogspot.com/2020/08/effective-sentence.html
https://english-grammarblog.blogspot.com/2022/03/all-about-completing-sentences.html
https://english-grammarblog.blogspot.com/2020/12/rules-of-changing-voice-active-to-passive.html
https://www.google.com/search?q=site%3Aenglish-grammarblog.blogspot.com
★ From Google Drive —

BCS Exam Syllabus (Download Now):

BCS Preliminary Test 

Download PDF

BCS Written Exam

Download PDF

https://bcspedia.blogspot.com/2022/04/preposition-shortcut-rules-techniques.html

https://bcspedia.blogspot.com/2020/10/blog-post_222.html

https://t.me/englishgrammarblog

https://bcspedia.blogspot.com/2022/03/full-guidelines-for-bcs-written-examination.html

https://bcspedia.blogspot.com/2022/03/1st-world-war-and-2nd-world-war.html

https://bcspedia.blogspot.com/search/label/%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A6%BE%20-%20Motivation

https://bcspedia.blogspot.com/2022/03/why-do-muslims-commit-terrorism.html

https://bcspedia.blogspot.com/2022/01/transformation-of-sentences.html

https://bcspedia.blogspot.com/2022/03/bcs-preliminary-test-last-minute-preparation-and-suggestion.html

🔔

https://bcspedia.blogspot.com/search/label/Earn%20Money

 

👍 CATEGORIES ⚝⚝⚝

#ওসমানি #আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান #মিশর #Egypt ১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ১. হ্যান্ডনোট এবং তথ্যবহুল চিত্র ১০. নৈতিকতা মূল্যবোধ ও সুশাসন ১১. বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান ২. ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য ৩. বাংলাদেশ বিষয়াবলি ৪. আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ৪০০টি প্রশ্নোত্তর: কম্পিউটার এবং কম্পিউটার-প্রযুক্তি 43rd BCS ৫. ভাইভা বোর্ড ৫. ভূগোল (বাংলাদেশ ও বিশ্ব) পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ৫২ থেকে ৭১ ৬. সাধারণ বিজ্ঞান ৭ মার্চ ৭. কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি ৮. গাণিতিক যুক্তি ৯. মানসিক দক্ষতা অনুপ্রেরণা অনুপ্রেরণা - Motivation আইনকানুন আন্তর্জাতিক আন্তর্জাতিক চুক্তি আন্তর্জাতিক বিষয়: সীমারেখা আন্তর্জাতিক সীমারেখা আপডেট আপডেট তথ্য আবিষ্কার ও আবিষ্কারক আলোচিত ১১ জন কবি-সাহিত্যিক ও তাঁদের রচনাবলী ইংরেজি ইংরেজি সাহিত্য উপাধি ও ছদ্মনাম এটর্নি জেনারেল এবার যাদের প্রথম বিসিএস কম্পিউটার কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি গণিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক নাম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ পরিচিতি চর্যাপদ চর্যাপদের কবিগণ জাতীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের শাখা এবং জনক জ্যামিতিক সূত্র দেশী বিজ্ঞানীরা নদ-নদী নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ পত্রিকা এবং ছদ্মনাম পদ প্রকরণ পররাষ্ট্রনীতি পরামর্শ পরামর্শ V. V. V. I. পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিমিতির (Mensuration) সূত্রাবলিসমূহ পাঁচমিশালী তথ্য + সাধারণ জ্ঞান পারিভাষিক শব্দ পুরাতন ও নতুন নাম প্রতিশব্দ প্রথম প্রকাশিত প্রস্তুতিহীন বিসিএস যাত্রা ফলা এবং যুক্তাক্ষর ফাঁদ প্রশ্ন ফিলিস্তিন Palestine ফ্রান্সের ইসলাম-বিদ্বেষ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বাংলা বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্যের মিলবন্ধন বাংলা ব্যাকরণ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বাংলা শব্দার্থ বাংলা সাহিত্য বাংলা সাহিত্যের দুই মহারথী বাংলাদেশ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বাংলাদেশ বিষয়াবলি বাগধারা বানান শুদ্ধিকরণ বিগত পরীক্ষাসমূহ বিপ্লব বিভক্তি বিসিএস পরামর্শ বিসিএস ভাইভা প্রস্তুতি বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ভাষা আন্দোলন ভূগোল ভৌগোলিক উপনাম ভ্যাকসিন কূটনীতি এবং বাংলাদেশ মডেল টেস্ট মডেলটেস্ট মহাকাশ মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সাহিত্যকর্ম মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বপূর্ণ খেতাব মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্যভাণ্ডার যুক্ত বর্ণ লিখিত গাইডলাইন লিখিত পরীক্ষা লেখা ও লেখক শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি ও পরামর্শ শ্রেষ্ঠ বাঙালি ✏️✏️ সংবিধান সংবিধান সংশোধনী সদর-দপ্তর সভ্যতা সমাস সাজেশন সাধারণ জ্ঞান সাধারণ বিজ্ঞান সাম্প্রতিক সাহিত্য-উৎসর্গ সাহিত্যিক সাহিত্যে কনফিউশন স্থাপত্য ও স্থপতি স্পোকেন ইংলিশ All Things Review Bangladesh Constitution BCS Preliminary Question Analysis BCS Preparation Special Episodes BCS Questions Earn Money Eat Chew Drink Take Have ? English Grammar English Grammar Exercises with Answers English Grammar Test English Literature Essay Writing General Science ICT Idioms and Phrases International financial institutions Love Stories in Literature Nobel Prize One Word Substitution Preposition Quiz Redundancy বাহুল্য (দোষ) Shortcut to Preposition Spoken English Terrorism Transformation of Sentences 👍 Translation United Nations Vocabulary Warrant of Precedence World Wars

এটি বিসিএস পরীক্ষার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ:


Literary Terms 


1. Simile (উপমা):

দুটি আলাদা বস্তু বা দুইজন ব্যক্তির মধ্যে as, like, resemble, the same as ইত্যাদি শব্দগুলাের উল্লেখ করে সরাসরি তুলনা করাকে simile বলে। 

Example -

• I wandered lonely as a cloud. 

• Youth (is) like summer morn.

• My heart is like a singing bird. 

• He is as cunning as a fox. 


2. Metaphor (রূপক):

দুটি আলাদা বস্তু বা দুইজন ব্যক্তির মধ্যে comparision এর শব্দসমূহ (যেমন: as, such, like ইত্যাদি) ব্যবহার না করেই তুলনা করাকে metaphor বলে। 

Example -

• Liza is a rose.

• Life is but a walking shadow. 

• Nazrul is fire.

• My brother was boiling mad. 


Note: একই জাতীয় বিষয়বস্তুর মধ্যে তুলনা হলে ......... Read More 


📓 পুরো আর্টিকেল/পোস্টটি পড়ুন